তৃণমূল আর আসতে পারবে না, চ্যাপ্টার ক্লোজড: শুভেন্দু
বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মমতা তৃণমূল, আর ঋতব্রত তৃণমূলকে দাঁড়িপাল্লার দু’দিকে বসিয়ে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি দুই শিবিরের বিধায়কদের কাছে শুভেন্দুর ছুড়ে দেওয়া প্রশ্ন, যিনি (মমতা) নিজের বুথে হেরেছেন,তাঁকে জননেত্রী মানতে হবে?
মঙ্গলবারের বিধানসভার অধিবেশন ছিল টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ। রাজ্যপালের ভাষণের উপর এদিন ছ’ঘণ্টা আলোচনা ছিল। তাতে সব দলের বিধায়করা অংশ গ্রহণ করেন। তবে রাজনীতির যাবতীয় আলো কেন্দ্রীভূত হল তৃণমূলের দুই খণ্ডের দিকে। ঘটনাচক্রে একই অধিবেশন কক্ষে থাকা দুই তৃণমূল শিবিরকে ছত্রে ছত্রে বিঁধলেন বিজেপি বিধায়করা। কে আসল তৃণমূল, সেটা প্রমাণে কসুর করলেন না ঋতব্রত ও কুণাল। দিনের শুরুটা করেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজ্যপাল যে ভাষণ দিয়েছেন, তাঁর বিভিন্নপাতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ করেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে নেওয়ার কথা বলেছেন রাজ্যপাল। তাহলে এই বিধানসভায় থাকা যদি কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধেনারী ঘটিতে কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে যেন সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়। পাশাপাশি নারদা প্রসঙ্গ তুলে ধরেও আক্রমণ শানান কুণাল।
পরের পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা হারিনি, একথা বলব না। বিজেপি জিতেছে, এটা বলব। তবে সরকারের কাছে অনুরোধ করব, কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। কিন্তু বিনা অপরাধে কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।
জবাবি ভাষণে তৃণমূলের দুই শিবিরকেই চাঁচাছোলা নিশানা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ২০২১ সালে ভোট গণনার দিন থেকে কী হয়েছে, সবাই দেখেছেন। মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী মানস সাহাকে গণনাকেন্দ্রে খুন করা হয়। সবমিলিয়ে ৫৭ জন কর্মী খুন হয়েছেন। আমাকে শতাধিকবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। রামনবমীর মিছিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর বিরোধীদের কর্মসূচি বন্ধ করে দিইনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি করার ছাড়পত্র দিয়েছিল পুলিশ।
শুভেন্দুর মন্তব্য, যে দুর্নীতি তৃণমূল করেছে, তাতে ওরা আর বাংলায় আসবে না। ওদের চ্যাপ্টার ক্লোজড। ৮০ থেকে বিধায়ক সংখ্যা ৬২’তে পৌঁছে যাওয়া কিংবা সাংসদ ২৮ থেকে কমে ২০ হয়ে যাওয়ার জন্য ওরাই দায়ী। এদিন অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে মুখ্যমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ পর্বে ওয়াকআউট করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের বিধায়করা। রয়ে যান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সহ কয়েকজন। এই সময় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুণাল বলেন, ব্যবস্থা নিলে সবার বিরুদ্ধে নিতে হবে। কুণালকে শুভেন্দুর পরামর্শ, আপনাদের কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধে যদি চুরি, ডাকাতি বা ত্রিপল চুরির অভিযোগ থাকে, অভিযোগ দিন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।