• ৩০ লক্ষাধিক ভুয়ো নাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে, বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘গুন্ডা, মাফিয়া, তোলাবাজ... একজনও জেলের বাইরে থাকতে পারবে না!’ মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে খোলাখুলি একথা জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। সেই প্রসঙ্গেই বিগত তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের জমানার দুর্নীতি সংক্রান্ত কিছু তথ্য মুখ্যমন্ত্রী পেশ করেছেন বিধানসভায়। রীতিমতো জেলা-ব্লকের নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রকল্পকে ঢাল করে ছত্রে ছত্রে কারচুপি হয়েছে আর সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূল নেতারা। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দুর্নীতি। শুভেন্দুবাবুর বিস্ফোরক অভিযোগ, ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষ প্রাপকের নাম পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথাই নয়। অর্থাৎ, ভুয়ো উপভোক্তা। আর সেই দুর্নীতির বার্ষিক অঙ্কটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা! অন্তত তেমনই ইঙ্গিত স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর।

    বাংলায় বিজেপি সরকারের লক্ষ্য—দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’! বাস্তবে  দেখাও গিয়েছে, পালাবদলের পর থেকে যে সমস্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হয়নি। প্রাক্তন-বর্তমান বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী, কাউন্সিলারদের হাজতবাস এখন বাংলায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই প্রেক্ষাপটেই এদিন বিধানসভার অধিবেশনে জবাবি ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী সামনে আনলেন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দুর্নীতির তথ্য। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প নিয়ে কিছু অভিযোগ আসার পর পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছি। তাতে দেখলাম, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পুরুষরাও পেয়েছে। এই রকম ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তথ্য পেয়েছি, যারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়। টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে হিসাব করে দেখুন কত টাকা লুট হয়েছে! ৩০ লক্ষ অ্যাকাউন্টে মাসে ১৫০০ টাকা করে গিয়ে থাকলে, ১২ মাসে মোট কত টাকা গিয়েছে? (৫,৪০০ কোটি)’ মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল, জঙ্গিপুর, বহরমপুর ব্লকে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা কীভাবে ভুয়ো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, সেই তথ্যও মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিধানসভায় উপস্থাপন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মাইনরিটি স্কলারশিপ, এলপিজি বেনিফিট, বার্ধক্য ভাতা সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা ভুয়ো অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

    এদিনের জবাবি ভাষণে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রেয়াত করেননি শুভেন্দু। জানিয়েছেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে প্রতি বছর ১১০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোজা পৌঁছে যেত ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই। কারণ, ওই খাদান থেকে আগের জমানায় বছরে মাত্র ৭ কোটি রাজস্ব আসত। সেখানে বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর মাত্র অল্প কয়েকদিনেই ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই রাজস্ব ১০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে। 

    মুখ্যমন্ত্রী এখানেই থামেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা কাগজ বিধানসভায় দেখিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ৩২৪ কোটি টাকা একটি বণিকসভাকে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি টেনে এনেছেন তৃণমূল সরকারের আমলে নির্বাচনি পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কথাও। জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে আইপ্যাকের একটি অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছে। সীমাহীন এসব দুর্নীতির প্রেক্ষিতে তাই বিধানসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সাফ হুঁশিয়ারি— সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা হিসাব... হবেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)