নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় রোজ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে জল জমছে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে। পুরসভার নিকাশি পাম্পিং স্টেশন ছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গায় জমা জল নামাতে প্রতি বছর নিয়ম করে প্রচুর অস্থায়ী পাম্প বসায় পুরসভা। কিন্তু অভিযোগ, চলতি বর্ষার মরশুমে এখনও সেই ৫০৫টি পাম্প বসানো যায়নি। পুরসভা সূত্রে খবর, শীর্ষ কর্তৃপক্ষের গড়িমসি এবং প্রশাসনিক জটিলতায় পাম্প নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এই অবস্থায় সম্প্রতি কিছু অস্থায়ী পাম্প বসানোর জন্য কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত মিলেছে বলে খবর। যদিও তা পর্যাপ্ত নয় বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
পুরসভা সূত্রে খবর, প্রতি বছর ১০ মে’র মধ্যে নিকাশি এবং বরো-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ মিলিয়ে ৫০০-র কিছু বেশি অস্থায়ী পাম্প শহরের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়। এর মধ্যে কিছু ডিপার্টমেন্টাল পাম্প রয়েছে। যেগুলি চালানোর জন্য লোক এবং তেলের খরচের ব্যবস্থাও পুরসভাই করে। বাকি পাম্পগুলি ভাড়ায় নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী যাবতীয় ফাইল তৈরি করে মে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পাম্পগুলি কার্যকর করে দেওয়া হয়। যেসব জায়গায় জল জমার প্রবণতা বেশি কিন্তু সহজে জল নামানো যায় না, সেরকম স্পটে এই পাম্পগুলি পাঁচ মাসের জন্য কার্যকর থাকে। অর্থাৎ গোটা বর্ষার মরশুমেই সক্রিয় থাকে অস্থায়ী পাম্পগুলি। এর পাশাপাশি কিছু পাম্প ‘স্টক’ রাখা থাকে। কোনো হাসপাতাল বা সরকারি অফিস চত্বরে জমা জলের সমস্যা দেখা দিলে সেই অস্থায়ী পাম্প পাঠিয়ে সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু চলতি বছর পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। সূত্রের খবর, সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে আর জি কর হাসপাতাল চত্বরে জল জমে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে অস্থায়ী পাম্প পাঠানো যায়নি। পরে গাড়ি পাঠিয়ে জল তোলার ব্যবস্থা হয়।
কেন এই পরিস্থিতি? আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছে, চলতি বছরেও ৫০৫টি অস্থায়ী পাম্প বসানোর ফাইল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবছর প্রথমে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কাজকর্ম আটকে ছিল। পরে সেই সংক্রান্ত ফাইলগুলি উপরে পাঠানো হলেও নানা ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়। বিভিন্ন অজুহাতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে এখনও আর্থিক অনুমোদন না মেলায় অস্থায়ী পাম্প ভাড়া নেওয়া যায়নি। পুরসভার নিজস্ব পাম্পগুলিও লোক লাগিয়ে, তেল কিনে চালানো যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, এই অবস্থায় সোমবার সেই ফাইলগুলির মধ্যে একটি মাত্র ফাইল ছাড়া হয়েছে। তাতে কিছু অস্থায়ী পাম্প চালু করে সামাল দেওয়ার চেষ্টা হবে। তবে বাকি পাম্পগুলি কবে কার্যকর করা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।