এই সময়: বিধানসভায় বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। এ প্রসঙ্গে ইসকনের কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যে ১০ লক্ষের বেশি পড়ুয়াকে তাঁরা ডিম ছাড়াই মিড–ডে মিলের খাবার দেন। ডিমের বিকল্প হিসেবে পড়ুয়াদের পাতে থাকে সয়াবিন, রাজমা এবং পনির।
এই প্রেক্ষিতে শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন তা হলে কি কলকাতার খুদে পড়ুয়ারা মিড–ডে মিলে ডিম পাবে না? আর রাজ্যের অন্যত্র স্বনির্ভর গোষ্ঠী মিড–ডে মিল রান্না করে। তাই সেখানকার পড়ুয়ারা সপ্তাহে একদিন ডিম পাবে?
রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘শুধুমাত্র ডিমেই পুষ্টি আছে, বিষয়টি একেবারেই তা নয়। পৃথিবীর একটা বড় অংশের মানুষ নিরামিষ খেয়ে বেঁচে থাকে। আমরা এটা পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে দেখছি। যদি দেখা যায়, এটা সফল হচ্ছে, তা হলে বিভিন্ন জায়গায় এই রকমের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
মিড–ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত কর্তারা জানাচ্ছেন, রাজ্যের ৫০ হাজারের বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ১২ হাজার স্কুলে সপ্তাহে পাঁচদিন ডাল, ভাত, সব্জি, সয়াবিন, আলুর চোখা (ভাতে), তরকারি, খিচুড়ির পাশাপাশি একদিন ডিমের ঝোল ও ভাত দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের পাশাপাশি বিরোধীরাও কলকাতার স্কুলে মিড–ডে মিলে ডিম বন্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ মঙ্গলবার বিধানসভায় বলেন, ‘কলকাতায় মিড–ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হচ্ছে। ওরা আমিষ খাবার পরিবেশন করে না। বাচ্চাদের পুষ্টির দরকার। মিড–ডে মিলে ডিম না পেলে ওদের পুষ্টির কী হবে?’ বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক–শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, মিড-ডে মিলে কী খাওয়ানো হবে, সেটা ঠিক হয় পুষ্টিমানের বিচারে। সেই অনুযায়ী, সপ্তাহে একদিন ডিম খাওয়ানো হয় পড়ুয়াদের। সেটা বাদ পড়লে, গরিব ও বস্তির শিশুরা সমস্যায় পড়বে।
যদিও ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান অরিজিৎ দে বলেন, ‘ডিম থেকে অ্যালবুমিন প্রোটিন মেলে। এই প্রোটিন অন্য কোনও সোর্স থেকে মেলে না। তাই মিড–ডে মিলে ডিম বন্ধ করলে, বিকল্প হিসেবে ১৩–১৪ গ্রাম প্রোটিন দেওয়া যেতে পারে রাজমা, পনিরের পাশাপাশি দই এবং ধোকার তরকারির মাধ্যমে।’ তিনি জানান, রোজকার খাবারের যদি শুধুই পটল ও কুমড়োর তরকারি দেওয়া হয়, তা হলে কিন্তু প্রোটিনের অভাব পূরণ হবে না।
মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অসংখ্য মহিলা। ইসকন এই দায়িত্ব নিলে, গোষ্ঠীর সদস্য মহিলাদের আয় বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে দীপক জানান, বাজেটে রাঁধুনিদের বেতন এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রকল্প শুরু হোক। যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো হবে।