• এক পরিবারেই পাঁচ উপভোক্তা! যাচাই পদ্ধতি কড়া করছে নবান্ন
    এই সময় | ২৪ জুন ২০২৬
  • এই সময়: তৃণমূল জমানায় চালু হওয়া সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ না–হলেও আগামী দিনে উপভোক্তা নির্বাচনে আরও কড়া হচ্ছে নবান্ন। বিজেপি সরকারের পেশ করা প্রথম রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে চালু সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ না–হলেও তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন হবে।

    সূত্রের খবর, বর্তমানে যাঁরা উপভোক্তা, নতুন তালিকায় তাঁদের সকলের নাম না–থাকা নিশ্চিত। কারণ বছরের পর বছর উপভোক্তার সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের যোগ্যতা যাচাই হয়নি। নবান্নের কাছে রিপোর্ট এসেছে, রাজনৈতিক নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের ধরে বহু অযোগ্য ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে নাম তুলে ফেলেছেন।

    একই প্রকল্পে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম ঢুকিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম হয়েছে। ফলে বর্তমানে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতার মতো কিছু প্রকল্পে সহায়তা প্রদান সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হলেও চাষিদের যে বাৎসরিক ৩০০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে, তা বাজেটেই ঘোষণা করা হয়েছে। এই কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে বলে জেনেছে নবান্ন। তার জেরে ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে দাবি কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ।

    অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘রাজ্যে বর্তমানে চালু সকল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি অব্যাহত থাকবে, যেহেতু আমরা মানবসম্পদ উন্নয়নে গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণীর কাছে পৌঁছে দেওয়া সুনিশ্চিত করতে এই প্রকল্পগুলির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটানো হবে।’

    নবান্ন সূত্রে খবর, সব প্রকল্পেরই উপভোক্তা তালিকা নতুন করে তৈরি করা হবে। তাতে যত সময় লাগে, লাগবে। তালিকায় এই জালিয়াতি ও গরমিলের কারণেই আপাতত বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। জনকল্যাণ শিবিরে নতুন করে এই প্রকল্পগুলিতে কিছু আবেদন জমা পড়েছে। এর পরে সরকারি অফিসগুলির মাধ্যমে আরও আবেদন জমা নেওয়া হবে। এই প্রকল্পগুলির জন্য নতুন করে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও যোগ্যতা যাচাই করা হবে।

    কৃষি দপ্তর দু’দফায় কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ১ একর বা তার বেশি জমির মালিকদের বছরে ১০ হাজার টাকা দিত। কিন্তু এই প্রকল্পেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ১ একরের কম জমি যাঁদের রয়েছে, তাঁদেরও বার্ষিক ৪ হাজার টাকা দেওয়া হতো, ভাগচাষিরাও এই টাকা পেতেন। অথচ এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে ৪-৫ জন উপভোক্তার নাম রয়েছে, তেমনই একই জমিতে একাধিক উপভোক্তার নামও রয়েছে। সেই কারণেই এই প্রকল্প পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। তবে বার্ষিক যে ৩০০০ টাকা এখন দেওয়া হবে, তার জন্য যাচাই পর্ব আরও কঠোর করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)