• কলকাতায় মুঘল-পাঠানদের নামে কিছু থাকবে না, সাফ কথা শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৪ জুন ২০২৬
  • এই সময়: কলকাতা শহরে মুঘল ও পাঠানদের নামে কিছু থাকবে না বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া আর কোনও বিদেশি ব্যক্তির নামে কলকাতায় কোনও রাস্তা থাকলে তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা হওয়া উচিত বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কলকাতার পার্ক সার্কাসে সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম বদলে গোপাল মুখার্জি রোড ঘোষণার পর থেকেই প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কের আঁচ বিধানসভাতেও পড়েছে। রাজ্যপালের ভাষণের উপরে বিতর্কে মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্রোহী তৃণমূলের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    ঋতব্রত যুক্তি দেন, গোপাল মুখার্জির নামে বউবাজার অঞ্চ‍লের কোনও রাস্তার নামকরণ করা যেতে পারত। কারণ, ওই এলাকা গোপাল মুখার্জির কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি তথা শিক্ষাবিদ–চিকিৎসক হাসান সুরাবর্দি আর অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রিমিয়ার মুসলিম লিগের নেতা হোসেন শাহিদ সুরাবর্দি এক ব্যক্তি নন– এই যুক্তি দেন সাবিনা।

    রাজ্যপালের ভাষণের উপরে বিতর্কের জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কার নাম কে চেঞ্জ করেছে আমার জানা নেই। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছি। যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেছি, তখন দেখেছি সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ লেখা ছিল। সুরাবর্দির নাম তো থাকবে না। যদি মনে করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর আব্দুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্ত, রাষ্ট্রভক্তকে সম্মান দেওয়ার দরকার রয়েছে, তথ্য দেবেন মর্যাদা দেব। সুরাবর্দির নাম থাকবে কেন?’

    এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শুভেন্দু আরও বলেন, ‘কলকাতাতে মুঘল পাঠানদের নাম থাকবে না। দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালির দাঙ্গা, অত্যাচারী ব্রিটিশ (এই সংক্রান্ত ঘটনা অথবা অধ্যায়ের যুক্ত ব্যক্তির নাম) আর ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া বিদেশি কারও নাম রাখার ক্ষেত্রে পাঁচবার ভাবতে হবে।’

    যদিও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য মনে করছেন পুরসভার রীতি মেনে এই নামবদল হয়নি। বিকাশের বক্তব্য, ‘আগে কলকাতার কোনও রাস্তার নাম বদল করতে হলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হতো। একটি নামকরণ কমিটি হতো। সেই কমিটি নাম বদলের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পুর বোর্ডকে সুপারিশ করতো। তারপরে নামকরণের প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তো। এখন পুরসভায় এই সব কিছুই হচ্ছে না, একজন কমিশনার ইচ্ছে মতো কাজ করছেন।’

    রাজ্যে পালাবদলের পরে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। এরপরেই কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত নামকরণ কমিটি সহ অন্যান্য কমিটির অস্তিত্ব বিলোপ হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘সুরাবর্দি অ্যভিনিউয়ের নাম আমরা বদল করে দিয়েছি। ওই রাস্তার নতুন নাম গোপাল মুখার্জি রোড রাখা হয়েছে।’ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার এই নামকরণের বিষয়ে আগামী দিনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি নতুন কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। শুভেন্দু বলেন, ‘পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ(কার্তিক) মহারাজের নেতৃত্বে নামকরণ, মূল্যায়ণের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করছি। উনি এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। যাঁর যে প্রস্তাব রয়েছে সেখানে দেবেন।’

    সুরাবর্দি অ্যাভেনিউর নাম বদলের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। এ দিন তাঁর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতার মতো আপনার বক্তৃতা ছিল। আপনার মস্তিষ্কে কার্ল মার্কস, হৃদয়ে লেনিন অথবা মাও সে তুঙ কাজ করছে। যাঁরা নেতাজিকে তোজোর কুকুর, রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে উপদেশ নেব না।’ সিপিএম নেতৃত্ব মনে করছেন ঋতব্রতর সমালোচনা করলেও গেরুয়া শিবিরের মূল নিশানা আসলে বামেরা। কলকাতায় মার্কস, লেনিন, হো চি মিনের নামে রাস্তা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া ‘বিদেশি’ ব্যক্তিদের নামে রাস্তা নিয়ে পাঁচবার ভাবার কথা বলেছেন। এই মন্তব্যের সূত্রেই বামেরা লেনিন সরণি, হো চি মিন সরণি–র নাম বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

  • Link to this news (এই সময়)