• লরির সঙ্গে আটকে গেল বাইক! শত চিৎকারেও বেপরোয়া চালক, যুবতীর মাথার উপর দিয়েই চলে গেল দৈত্যাকার গাড়ি
    News18 বাংলা | ২৪ জুন ২০২৬
  • নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ সেতুর নিকট ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক তরুণীর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক যুগল মোটরসাইকেলে করে গৌরাঙ্গ সেতু এলাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন এবং সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলেন। সেই সময় কৃষ্ণনগর অভিমুখী একটি দ্রুতগামী ১৬ চাকার বালিবোঝাই লরি এসে তাঁদের মোটরসাইকেল ওভারটেক করার চেষ্টা করে, আর তাতেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই কাণ্ড।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওভারটেক করার সময় লরির ধাক্কায় মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল ঘুরে যায় চালকের। তাতে চালক যুবক বাঁদিকে ছিটকে পড়লেও, তরুণী সরাসরি চলন্ত লরির তলায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও চা বিক্রেতারা চিৎকার করে লরিটিকে থামানোর চেষ্টা করলেও ঘাতক লরিটি তরুণীর মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। পর পর চারটি চাকা তরুণীর ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি হয়। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা ধাওয়া করে ঘাতক লরিটিকে আটক করে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী মধুমিতা হালদার (২৫) স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর বাবা পেশায় মাছ বিক্রেতা। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গৌরাঙ্গ সেতু থেকে নামার এই রাস্তায় কোনও স্পীড ব্রেকার বা বাম্পার নেই, যার ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র গতিতে গাড়ি চলাচল করে এবং ইতিপূর্বেও এখানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে সেতু থেকে নামার মুখে স্পীড ব্রেকার বা বাম্পার তৈরির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

    এদিকে, একই সময়ে একই জায়গা থেকেই দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই উদ্ধার হয় তুষের বস্তার আড়ালে ১২৫ কেজি গাঁজা, নবদ্বীপে পুলিশের জালে সাত পাচারকারী। গৌরাঙ্গ সেতু রোডে গভীর রাতে অভিযান করে আটক লরি ও স্করপিও, আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করল নবদ্বীপ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ সেতু রোড সংলগ্ন কেশবজী গৌড়ীয় মঠের কাছে একটি সন্দেহজনক লরিতে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয়। ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে একটি লরি ও একটি স্করপিও।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা থেকে আসা লরিটি নদিয়ার নাজিরপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নবদ্বীপ থানার পুলিশ ওই এলাকায় নজরদারি শুরু করে। পরে লরি ও তার সঙ্গে চলা একটি স্করপিও গাড়ি আটকে তল্লাশি চালাতেই শতাধিক তুষের বস্তার আড়াল থেকে লুকিয়ে রাখা গাঁজা বেরিয়ে আসে। লরিতে চালক-সহ তিনজন এবং স্করপিও গাড়িতে চারজন ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্করপিওটি লরিটিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এসকর্ট হিসেবে চলছিল।

    অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন নবদ্বীপ থানার পুলিশ আধিকারিক এবং জেলা পুলিশের কর্তারা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার উৎস, গন্তব্য এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে, ধৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করবে পুলিশ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)