এই সময়: দেশের প্রায় ১৪ লক্ষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকের জন্য একটি অভিন্ন ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরির লক্ষ্যে চালু হওয়া ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টার (এনএমআর) প্রকল্প কার্যত ধীরগতির ফাঁদে আটকে পড়েছে।
চালু হওয়ার পরে দু’বছর পেরিয়ে গেলেও আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৮০০ জন চিকিৎসক এনএমআর–শংসাপত্র পেয়েছেন। ৩০ হাজারেরও বেশি আবেদন এখনও যাচাইয়ের অপেক্ষায়। এই অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ভাবছে।
দেশের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় থাকা রেজিস্টার্ড অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার হলো এই এনএমআর। ২০২৪–এর অগস্টে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এই পোর্টালের সূচনা করেন। গোড়ায় চিকিৎসকদের জন্য এনএমআরে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হলেও প্রকল্পে সাড়া কম থাকায় পরে তা ঐচ্ছিক করা হয়।
এনএমসি–র সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, কমিশনের ১৭তম বৈঠকে সদস্যরা এনএমআর–প্রকল্পের ‘শ্লথ অগ্রগতি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৈঠকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধানের সুপারিশ এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক।
কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐচ্ছিক নিবন্ধন ব্যবস্থা, বিভিন্ন রাজ্যের মেডিক্যাল রেজিস্টার ও এনএমআরের তথ্যের অসঙ্গতি এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকদের নথিভুক্তির জন্য বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিল বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন ব্যবস্থা ব্যবহার করে। ফলে। তথ্য সমন্বয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তার জন্যই সারা দেশের জন্য একটি অভিন্ন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এনএমসি–র সচিব রাঘব লাঙ্গার ওই বৈঠকে জানান, রাজ্য মেডিক্যাল রেজিস্টার এবং জাতীয় রেজিস্টারের মধ্যে রিয়েল টাইম সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সংস্কার জরুরি। প্রস্তাবিত কমিটি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের রূপরেখা তৈরি করবে।
আরটিআই কর্মী কেভি বাবু, যিনি নিজেও এনএমআর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন, দাবি করেছেন যে, প্রকল্প চালুর সময়েই বিভিন্ন মহল থেকে সম্ভাব্য নানা জটিলতার কথা জানানো হয়েছিল। তাঁর মতে, দেশের চিকিৎসকদের নির্ভরযোগ্য ও আপ টু ডেট ডেটাবেস তৈরির জন্য এনএমআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার বর্তমান অগ্রগতি হতাশাজনক।