• নভেম্বরে ছিল বিয়ে, তার আগেই লখনৌয়ে ঝলসে মৃত্যু, অনামিকার দেহ আনা হলো হাওড়ার বাড়িতে
    এই সময় | ২৪ জুন ২০২৬
  • লখনৌয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে হাওড়ার অনামিকা সামন্তর (২৭)। বুধবার তাঁর দেহ আনা হলো জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার পৈতৃক বাড়িতে। তাঁকে দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামে।

    লখনৌয়ের অলিগঞ্জের আবাসনের দোতলায় ছিল ‘হেড হপার স্টুডিওস’। সেখানেই কাজ করতেন অনামিকা। গত সোমবার ওই বিল্ডিংয়েই আগুন লেগে যায়। নীচে একটি পেট শপ ছিল। দোতলায় স্টুডিও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথমে গ্রাউন্ড ফ্লোরের পেট শপেই আগুন লাগে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিল্ডিংয়ে।

    ওই স্টুডিওতেই কাজ করতেন নীলেশ কুমার (২৮)। তাঁর সঙ্গে নভেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল অনামিকার। সব তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিল দুই পরিবার। কিন্তু আগুনে পুড়ে দু’জনেরই মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যাতেই খবর আসে অনামিকার নিউ আলিপুরের বাড়িতে। জগৎবল্লভপুরে পৈতৃক বাড়ি হলেও অনামিকারা সপরিবারে থাকতেন নিউ আলিপুরে।

    রাতেই লখনৌয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন অনামিকার বাড়ির লোকজন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে অনামিকার মা-বাবা, কাকা এবং ভাই পৌঁছন লখনৌ। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা যান মর্গে। সেখানেই অনামিকাকে শনাক্ত করেন তাঁরা। মৃতার কাকা বলেন, ‘পুরো দেহটাই আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। চেনাই মুশকিল। শেষে মুখের কিছুটা অংশ দেখে ভাইঝিকে শনাক্ত করে দাদা-বৌদি।’

    অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মা সুলেখা গৃহবধূ। তাঁদের এক ছেলেও রয়েছে। তবে অনামিকাই বড়। গত সপ্তাহে নীলেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁরা। পাকা কথা বলতে। আগামী সপ্তাহে নীলেশের বাড়ির লোকের কলকাতায় আসার কথা ছিল। তার আগেই আগুনে পুড়ে গেল সব।

  • Link to this news (এই সময়)