• তারাতলায় সুবিশাল লোহার ছাদ কীভাবে ভেঙে পড়ল? এখনও পর্যন্ত যা যা জানা যাচ্ছে
    আজ তক | ২৪ জুন ২০২৬
  • একটি ৩ তলা গোডাউন তৈরি হচ্ছিল তারাতলার বেসব্রীজ এলাকায়। বুধবার দুপুরে নির্মাণ কাজ চলাকালীন আচমকাই সেই গোডাউনে ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। আর তাতেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়। কাজে নিযুক্ত ৫০-৬০ জন শ্রমিক ওই লোহার ছাদের নীচে চাপা পড়ে যান। অনেকে গুরুতর আহত হন। একাধিক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই ৩ তলা বিশিষ্ট কংক্রিটের কাঠামো ধসে পড়ল? কার গাফিলতি রয়েছে এর নেপথ্য? 

    কেন ভেঙে পড়ল এই গোডাউন?
    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, লোহার বীম বা  পিলারের ধারণ ক্ষমতা ছিল না। বিপুল পরিমাণ কংক্রিটের ঢালাই ধরে রাখা বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। টিনের উপর কংক্রিটের ঢালাই করে তৈরি হচ্ছিল এই গোডাউনের ছাদ। সেটি উপরে থেকে সরাসরি নেমে দুমড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। লোহার বীমের উপর এই ঢালাই চাপানো হয়েছিল, তা ভার বহন করতে পারেনি। তাই দুমড়ে নীচে ঢুকে এসেছে। যাঁরা নীচে ছিলেন, তাঁদের চাপা দিয়ে দিয়েছে সেটি।

    সাধারণত কোনও বিল্ডিং তৈরি করা হলে, প্রথমে লোহার রড দিয়ে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়। কিন্তু এখানে পিলারের উপর সরাসরি টিন দিয়ে তার উপর কংক্রিটের ঢালাই চাপানো হয়েছিল। ছাদকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য মাঝে কোনও শক্ত পিলার বা বীম ছিল না। ফলত টন টন লোহার ভার ধরে রাখতে পারেনি সেই পিলারগুলি। 

    প্রত্যক্ষদর্শীরা কী জানাচ্ছেন?
    স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, ঢালাইয়ের কাজ জারি ছিল। তার মধ্য এদিন সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। গুদামের তিন তলা উঁচু ছাদ  হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। যতটা আয়তনের এই কংক্রিটের গোডাউনের ছাদ ছিল, তা তিনতলা, দোতলা শুদ্ধু কাঠামো বসে গিয়েছে। উপর থেকে সরাসরি ধসে পড়েছে ভিতরে। 

    কার গাফিলতি?
    স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছে।  গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা।  

    এদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে BJP নেতা রাকেশ সিং অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ চলেছে। অবিলম্বে ঠিকাদার সংস্থার কর্তাকে গ্রেফতার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় CPIM কর্মীরাও বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সরব হয়েছেন। ইঞ্জিনিয়াররাও জানাচ্ছেন, এভাবে নির্মাণ করার ক্ষেত্রে কার অনুমোদন ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।

    নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও (1070, 8697981070, 033 22143526 এবং 033 22535185)। মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছেন। ৮ জনকে উদ্ধার করে SSKM হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা। সঙ্গে রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ, দমকল। 

     
  • Link to this news (আজ তক)