বদলে গেল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে চাপে অনুপ্রবেশকারীরা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ জুন ২০২৬
সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই ছিল বিজেপির অ্যাজেন্ডা। বিধানসভা নির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করে দিয়েছে। তারপরই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত এলাকাগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এমনকী কদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গেড়ে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের আবার দেশ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগের তৃণমূল-সরকার কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি দিত না বলে অভিযোগ ছিল। এবার তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
এদিকে জমি পেয়েই সীমান্ত কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে বিএসএফ। এই কয়েকদিনেই ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ করে পেলেছে বিএসএফ। সীমান্তে বসেছে কাঁটাতার স্তম্ভ। বাকি যেটুকু কাজ রয়েছে তা শীঘ্রই শেষ হবে। এবার সেই কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট পাঠাল বিএসএফ। কারণ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন
কয়েক মাসের মধ্যে বেড়া দেওয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তার আগে যাঁরা পালাতে চান, পালিয়ে যান। হাকিমপুর দিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে পালিয়েছেন।’
অন্যদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কাছে জমি চেয়েছিল বিএসএফ। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুই দফায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিয়েছেন। আর জমি পেয়েই মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার একাংশের জমিতে কাঁটাতার লাগানোর জন্য স্তম্ভ বসানোর কাজ শেষ করেছে বিএসএফ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে এই ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে বিএসএফের ইস্টার্ন কমান্ড। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা যে প্রথম অগ্রাধিকার, সেটা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সকলেই। অমিত শাহ মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে স্পষ্ট বলেছেন, ‘ভারতবর্ষ কোনও ধর্মশালা নয়। এই দেশে তাঁরাই থাকবেন, যাঁরা এই দেশের নাগরিক।’
তাছাড়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন আউটপোস্ট তৈরিতে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। রাতে নজরদারি করার জন্য আধুনিক এবং গুণগত সম্পন্ন, যা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম সিসিটিভি বসানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে থাকছে লেজার রশ্মি। যা রাতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা যাবে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহারেরও চিন্তাভাবনা চলছে। প্রস্তাবিত আউটপোস্টগুলি অনেক বেশি উন্নত। বিএসএফ সূত্রে খবর, স্মার্ট বর্ডার তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো রাখা হচ্ছে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। আর এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জন্য সরকারি নীতি পরিষ্কার। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি আঙুল তোলেন, তাহলে তাঁরা যে ভাষা বোঝেন, সেই ভাষাতেই উত্তর দেবো। ভারতীয়দের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে আমরা দেশের সম্পদ নষ্ট করব না। আমাদের খাবার, আমাদের ওষুধ ওদের দেবো না। ধরে বিএসএফের হাতে তুলে দেবো।’