• সিঙ্গুরে রেল প্রকল্পের জমিতে বসবাসকারীদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ জুন ২০২৬
  • দশকের পর দশক ধরে সিঙ্গুরের প্রায় সাড়ে পাঁচ কাঠা জমিতে ৮টি পরিবারের বসবাস। রেলের সঙ্গে জমির মালিকের চুক্তি হলেও ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কোনওরকম চুক্তি ছিল না রেল কর্তৃপক্ষের। তাই তারা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। বুধবার বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য রেলের জারি করা উচ্ছেদ নোটিসের ওপর আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করলেন।

    সরকারি প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ডানকুনি-লুধিয়ানা ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর প্রকল্পের জন্য সিঙ্গুরে অধিগৃহীত জমি সংক্রান্ত মামলায় এই নির্দেশ দেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।

    মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী অরিন্দম দাস জানান, কয়েক বছর আগে রেল কর্তৃপক্ষ ওই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিল। জমির মালিকদের নির্ধারিত মূল্য ও অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হলেও জমি সম্পূর্ণভাবে দখলে নিতে পারেনি রেল। রাজ্যজুড়ে একের পর এক রেলস্টেশনের যেভাবে বেআইনি উচ্ছেদ শুরু করেছিল তারপরই সম্প্রতি সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়।

    উচ্ছেদ নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন অধিগৃহীত জমির বাড়িতে বসবাসকারী ৮টি ভাড়াটিয়া পরিবার। তাঁদের দাবি, জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ পেলেও তাঁরা কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাননি। যদিও আইন অনুযায়ী তাঁরাও ক্ষতিপূরণের অধিকারী। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী জানান, ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কার্যক্ষেত্রে করা হয়নি। তিনি এই সংক্রান্ত নথিও আদালতে পেশ করেন।

    রেলের পক্ষের আইনজীবী আদালতে স্বীকার করেন যে, প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে বসবাসকারী ব্যক্তিরাও এককালীন ক্ষতিপূরণের অধিকারী। এরপর আদালত রেলের জারি করা উচ্ছেদ নোটিস আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আদালতে রেলকে জানাতে হবে, কেন ২০২৩ সালে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি? একইসঙ্গে মামলাকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৩ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে তাঁরা সম্মত থাকলেও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তবে রাজ্যের পক্ষ থেকে নির্ধারণ না হওয়ায় অর্থ প্রদান সম্ভব হয়নি বলে দাবি রেলের। আইনজীবী মহল মনে করছেন, ২০১৩ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইন বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। রাজ্যে আইনটির পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ দীর্ঘদিন ধরে হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)