একদিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে বিধানসভায়, নতুন বিল আসছে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ জুন ২০২৬
বেআইনি কাজ, দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতন নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেই কাজ যে করা হবে তা জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন বিধানসভার অধিবেশন চলছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এবার এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, চলতি অধিবেশনের শেষ দিনেই একটি অত্যন্ত কঠোর এবং সম্পূর্ণ নতুন বিল আসতে চলেছে। এই নতুন আইনে রাজ্যের যে কোনও স্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক, নেতা বা ব্যক্তিদের বেআইনিভাবে অর্জিত সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এদিকে বিধানসভা সূত্রে খবর, এই বিলটি পাশ করার জন্য আগামী সোমবার (২৯ জুন) একদিনের জন্য বিধানসভার বিশেষ জরুরি অধিবেশন ডাকা হচ্ছে। এখন তৃণমূল ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। বহু নেতার নামে বেআইনি সম্পদ সামনে এসেছে। তার জেরে গ্রেপ্তারও হয়েছে বহু নেতা। এই বিল এনে যদি দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে তা তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করবে বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বাকি বিরোধীরা এবং ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে সুজিত বসু থেকে সব্যসাচী দত্ত এখন দুর্নীতির অভিযোগে জেলে আছেন। এই আবহে এমন বিল এনে পাশ হলে আরও কয়েকজন জেলে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনের সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তারপর বিরতির পর দ্বিতীয় দফার মূল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা আগামী ৭ জুলাই থেকে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে দুর্নীতি-বিরোধী বিলটি আনার কথা ঘোষণা করেছেন সেটার খসড়া তৈরির কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
তাছাড়া এই বিলে কোনও খামতি থাকুক তা চান না মুখ্যমন্ত্রী। তাই ওই বিলটির সবদিক খতিয়ে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এই কারণেই মাঝে বিরতির সময়ে, আগামী সোমবার অর্থাৎ ২৯ জুন একদিনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে। তখন ওই বিলটি বিধানসভায় পেশ করে পাশ করিয়ে নিতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। একদিন আগেই এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘অনেকেই হয়তো ভাবছেন বড় দুর্নীতি করে দু’মাস বা চার মাস জেলে থাকবেন, তার পর আইনের ফাঁক গলে বা আইনি লড়াই করে আবার জেল থেকে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে আসবেন। সেদিন এবার ফুরিয়েছে। এবার আমরা শুধু জেলেই পাঠাব না, আইন মেনে সরাসরি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। আর সেই সম্পত্তি নিলাম করে সাধারণ মানুষের টাকা ফিরিয়ে দেবো। হরিশ চ্যাটার্জি রোড, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ আমতলার যে সব বিশাল বিশাল রাজপ্রাসাদ গড়ে উঠেছে, আইন মেনে সেগুলিকে অধিগ্রহণ করে কলকাতার বিভিন্ন উড়ালপুলের নীচে কিংবা ফুটপাথে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটানো মানুষদের স্থায়ী থাকার বন্দোবস্ত এই সরকার করবে।’