ভোট ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলে শুরু হয়েছে গৃহদাহ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর নয়! দলে দলে এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূলে’ নাম লেখাচ্ছেন নেতারা। যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু এর মধ্যেও যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিনি। সেই মহুয়ার গলায় এবার অন্য সুর? হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা! সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে মহুয়া যা বলেছেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা!
একদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবিরের সঙ্গে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই। অন্যদিকে সংসদেও মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’কে জোটকে সমর্থন করার জন্য ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। এই আবহেই বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূল সাংসদে শুভেন্দু অধিকারীর কথা উঠে এসেছে। তিনি বলছেন, “ব্যক্তিগত স্তরে, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আমরা যখন একসঙ্গে তৃণমূলে (টিএমসি) ছিলাম, তখন তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কীভাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি কঠিন পর্যায়ে শুভেন্দু তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে মহুয়া আরও বলছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে লোকসভার টিকিট না পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন, “২০১৪ সালে আমার লোকসভার টিকিট পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমি তা পাইনি। আমি সারারাত ধরে কেঁদেছিলাম। সেই সময়ে শুভেন্দুই আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন বোন আমি পাশে আছি।” শুধু তাই নয়, সাক্ষাৎকারে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলেছেন মহুয়া। জানান, প্রথম করিমপুর থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু কোনও শীর্ষ নেতা সেই সময় প্রচারে আসেননি। শুভেন্দু অধিকারী প্রথম সভা করেন। মঞ্চে শুধু শুভেন্দু অধিকারী এবং আমি। সেই ছবিগুলি এখন যে তাঁর কাছে যত্নে রাখা আছে তাও জানান তৃণমূল সাংসদ।
বলে রাখা প্রয়োজন, একটা সময় তৃণমূলের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন সংগঠনের দায়িত্বেও। যদিও পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের নেপথ্যে বড় একটা ভূমিকা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে প্রশাসনিক প্রধান তিনি। এহেন পরিস্থিতিতে মহুয়া মৈত্রের বক্তব্যে শুভেন্দুর প্রশংসা অন্যমাত্রা পেয়েছে। যদিও কৃষ্ণনগরের সাংসদ সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ নেই। তবে একটা সময় যেভাবে সাহায্য এসেছিলেন তা ভুলতে পারেননি। রাজনৈতিকমহলের মতে, সাংসদের এহেন মন্তব্য কেবলই স্মৃতিচারণ। এরমধ্যে কোনও জল্পনার অবকাশ নেই।