আট বছর আগে সিপিএম সমর্থক দম্পতিকে পুড়িয়ে মেরেছিল তৃণমূল? শুভেন্দুর নির্দেশের পরেই গ্রেপ্তার ১০ অভিযুক্ত
প্রতিদিন | ২৪ জুন ২০২৬
আট বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে সিপিএম সমর্থক দম্পতিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তৃণমূলের লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। কিন্তু পুলিশ সেভাবে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন মৃত দম্পতির একমাত্র ছেলে দীপঙ্কর দাস। সেই সাক্ষাতের পরেই অ্যাকশনে পুলিশ। রাতভর তল্লাশির পর আটক করা হয় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সিপিএমের সমর্থক দম্পতি দেবু দাস ও ঊষা দাস। অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁদের উপর হামলা হয়। দু’জনকে তৃণমূলের লোকজন বাড়িতে পুড়িয়ে মেরেছিল বলে অভিযোগ। সেসময় তাঁদের সন্তান কলেজ ছাত্র দীপঙ্কর দাস বাড়ি ছিলেন না। পরে বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ দেখতে পান ছেলে। সেই ঘটনায় কাকদ্বীপ থানায় ১২ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
পুলিশ তদন্তে নেমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও দম্পতির ছেলে দীপঙ্করের অভিযোগ, যাদের পাকড়াও করা হয়েছিল, তাঁদের কারও নাম এফআইআরে ছিল না। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করে পুলিশ ছেড়ে রেখেছিল। তৃণমূল শাসনকালে এই ঘটনাটি নাড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে ওই তদন্ত হিমঘরে চলে যায়! সরকার বদলের পর পুরনো একাধিক ঘটনার তদন্তের কথা বিজেপি সরকারের তরফে জানিয়েছিল। জিরো টলারেন্সের কথা জানানো হয়। গতকাল, মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ওই দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর। বেশ কিছু সময় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
গতকাল রাতেই কাকদ্বীপ থানার পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। রাতভর তল্লাশিতে মোট ১০ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁদের সকলকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এদিনই ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। এদিকে, আজ, বুধবারই সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর দীপঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে খবর।