• ‘দলের নির্দেশেই টাকা তুলেছিলাম’, কাটমানি ফিরিয়ে স্বীকারোক্তি ২ তৃণমূল নেতার
    প্রতিদিন | ২৪ জুন ২০২৬
  • বদলের জমানায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের প্রতিফলন রাজ্যের সর্বত্র। আর সেই প্রতিবাদের চাপে ক্ষমতাহীন তৃণমূল নেতারা নিজেদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে বাধ্যই হচ্ছেন। সেই তালিকায় এবার সংযোজিত হল কোচবিহারের দুই তৃণমূল নেতার নাম। বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিলেন উত্তম বর্মন ও মনোজ অধিকারী। বুধবার তাঁদের ডেকে সেই কাটমানি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ২ তৃণমূল নেতা স্বীকার করলেন, নিজেদের ইচ্ছেয় নয়, দলের নির্দেশেই বাড়ি দেওয়ার পরিবর্তে টাকা আদায় করা হয়েছিল। সেই টাকা ফিরে পেয়ে খুশি হলেও দুই নেতার উপর রাগ মিটছে না আমজনতার।

    ঘটনাস্থল কোচবিহার জেলার ভাওয়েরথানা অঞ্চলের ছোট ব্যাঙডাকি এলাকা। এখানে আবাস যোজনা প্রকল্প ঘিরে কাটমানির অভিযোগ উঠেছিল আগে। অভিযোগ, আবাস যোজনার টাকা পাওয়ার পর উপভোক্তাদের কাছ থেকে একেকজনের কাছ থেকে একেক অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। কাঠগড়ায় ছিলেন তৃণমূলের দুই স্থানীয় নেতা উত্তম বর্মন ও মনোজ অধিকারী। বাড়ি প্রাপকদের বক্তব্য, সেই সময় শাসকদলের দাপটে ভয় পেয়ে অনেকেই মুখ খুলতে পারেননি।

    কিন্তু ছাব্বিশের ভোটের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূল সরকারের পতনে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। ফলে পরিস্থিতিও বদলেছে। আগেকার যাবতীয় অন্যায়ের প্রতিকার পর্ব শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ কথার বেশ প্রভাব পড়ছে। দিন কয়েক আগে ছোট ব্যাঙডাকি এলাকায় আবাস যোজনার উপভোক্তারা একজোট হয়ে আন্দোলনে নামেন। দাবি তোলেন, তাঁদের থেকে নেওয়া কাটমানি ফেরাতে হবে। সেই চাপের মুখে পড়েন এলাকার দুই তৃণমূল নেতা উত্তম বর্মন ও মনোজ অধিকারী।

    বুধবার তাঁরা উপভোক্তাদের ডেকে সেই টাকা ফেরত দেন। এক বৃদ্ধ জানান, তাঁর কাছ থেকে ৪৯০০ টাকা আদায় করা হয়েছিল। সেই টাকা আজ পেলেন। তৃণমূল নেতা উত্তম বর্মন জানান, ‘‘বাড়ি পাওয়ার জন্য দলের নির্দেশেই ওই টাকা তুলেছিলাম, নিজেদের ইচ্ছেয় তুলিনি। আজ সেই টাকা ফেরালাম। ৯ জনের হাতে মোট ২৪,৯০০ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হল।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)