তিনতলার ছাদের ঢালাইয়ের সময় তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে বিপত্তি। প্রায় ১০ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও ভিতরে বহু শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বিপর্যয়ের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলেই পৌঁছেছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, “দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। সেনা নামানো হয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য প্রাণগুলোকে বাঁচানো। দ্রুত গতিতে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে।” পাশাপাশি তৃণমূলের আমলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গোডাউনটি তৈরি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জানা গিয়েছে, বন্দরের জমিতে তৈরি হচ্ছিল ওই চায়ের গুদামটি। বুধবার চলছিল তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। সেই সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ। নিচে চাপা পড়ে যান শ্রমিকরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আনা হয়েছে অত্যাধুনিক পদ্ধতির গ্য়াসকাটার, ক্রেন। পৌঁছেছে অ্য়াম্বুল্যান্স। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধায়ক রাকেশ সিং, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল, পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। সূত্রের খবর, ভিতর আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ চলছে পুরোদমে। ইতিমধ্যেই ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাকেশ সিংয়ের দাবি, ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ভিতরে এখনও কমপক্ষে ৩০ জন আটকে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজে সেনা নামানো হয়েছে বলেও খবর। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ। বাইরে থেকে ভিতরে আটকে পড়াদের নাম ধরে ডেকে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে তাঁরা কোন পরিস্থিতিতে রয়েছেন।
এদিকে নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। চালু করা হয়েছে তিনটি নম্বর। সেগুলো হল, 1070, 8697981070, 033 22143526 ও 033 22535185। এদিকে ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় তৃণমূলের দুর্নীতিকেই দায়ী করছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল। কাটমানি নিয়ে এমন লোককে গোডাউন তৈরির কাজ দেওয়া হয়েছিল, যার এই কাজের কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যার জেরে এই ভয়ংকর পরিস্থিতি। এবিষয়ে পোর্টকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলেই দাবি এলাকার এক বাসিন্দার।