পুনের লোহাগড় দুর্গে তরুণ ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়ালের খুনের তদন্তে একের পর এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনে জড়িত সন্দেহে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করার পরেই প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যার বিবরণ। ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে, প্রেমিকের সাহায্যে হবু বর কেতনকে পাহাড় থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ সিয়ার বিরুদ্ধে।
এ বার কেতনের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগেই তরুণ ব্যবসায়ী তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের আচরণ নিয়ে একাধিকবার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে সিয়ার। পরিবারকে তিনি জানালেও, কেতনের কথা তেমন পাত্তা দেননি কেউই। সেই কথা মনে পড়লেই হাহাকার করে উঠছেন তরুণ ব্যবসায়ীর বাবা।
কেতনের পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও তাঁদের ছেলে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাগদানের পর থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল সিয়ার আচরণে পরিবর্তন এসেছে এবং তিনি পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করেছিলেন। এমনকি, সিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ও অতীত সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার বিষয়ে জোরও দিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু সিয়ার পরিবার আগরওয়ালদের বহুদিনের পরিচিত ও পারিবারিক বন্ধু হওয়ায় ছেলের কথায় আমল দেননি কেতন বিশালের মা-বাবা।
তদন্তে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে যে, সিয়ার সঙ্গে চেতন চৌধরী নামে এক তরুণের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, কেতনের মৃত্যুর ঘটনায় এই সম্পর্কের বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সিয়া এবং চেতনের ফোন এবং কল রেকর্ডেও মিলেছে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার প্রমাণ।
পরিবারের অভিযোগ, কেতন সম্পর্ক নিয়ে সংশয়ে থাকলেও বিয়ের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ভেঙে দেননি। বরং বিষয়টি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কেতনের মা জানিয়েছেন, ছেলের দ্বিধা শুনে আর সিয়ার বয়সের কথা ভেবে একবার বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার কথাও উঠেছিল। কিন্তু কনের পরিবার রাজি হয়নি।
তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, বিয়ে যত এগোচ্ছিল ততই বাড়ছিল কেতনের সন্দেহ। তিনি বাড়িতে জানিয়েছিলেন, সারা দিনে অধিকাংশ সময়েই সিয়ার ফোন ব্যস্ত থাকে। সিয়া কার সঙ্গে অত কথা বলতেন. তা জানতে চেয়েও সঠিক উত্তর নাকি পেতেন না। এমনকি, সিয়ার সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সময়ে বারবার ফোনে চেতনের কল আসার বিষয়টিও নাকি নজরে পড়েছিল কেতনের।
তদন্তকারীদের অন্য একটি সূত্রের দাবি, সিয়ার বারবার পুনের লোহাগড় দুর্গ ঘুরতে যেতে চাওয়ার আবদারেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন পুনের এই তরুণ ব্যবসায়ী। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩১ মে এবং ১৪ জুন, দু’বার তাঁরা লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। কিন্তু সিয়া জন্মদিনের উদযাপনের জন্যেও ১৮ জুন আরও একবার যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তদন্তে প্রকাশ, লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়েই কেতনকে হত্যার ছক কষেছিলেন সিয়া ও চেতন। আগে তিন বার ব্যর্থ হলেও ১৮ জুন কেতনকে হত্যার প্ল্যান সফল হয়।