• ২০০০ বার ফোন কল! পুনে ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত সিয়া-চেতনের প্রেমের শুরু কবে?
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২৬
  • পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড ফিরিয়ে এনেছে মেঘালয় হনিমুন মার্ডার ঘটনার স্মৃতি। হনিমুনে গিয়ে সোনম ও তাঁর প্রেমিক মেঘালয়ে গিয়ে খুন করেছিল রাজা রঘুবংশীকে। একইরকম ভাবে প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হবু বর কেতন আগরওয়ালকে পুনের লোহাগড় দুর্গের খাদে ধাক্কা মেরে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হত্যা তরুণ ব্যবসায়ীকে খুন করেছেন তাঁরা। কিন্তু কী ভাবে ও কবে পরিবারের নজর এড়িয়ে গড়ে উঠেছিল সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর সম্পর্ক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাগদানের পরে দুই পরিবারে জোরকদমে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। তারই মধ্যেই নাকি তৈরি হচ্ছিল অন্য এক সমীকরণ। পুনে গ্রামীণ পুলিশের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধরির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কেতনের সঙ্গে বিয়ের অনেক আগেই। সিয়া ও চেতনের পরিচয় হয়েছিল গত বছর এক দিওয়ালির পার্টিতে। সেখান থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক মাসের মধ্যে ২ হাজারেরও বেশি বার দু’জনের ফোনে কথা হয় এবং প্রতিদিন প্রায় দীর্ঘ সময় ফোনে একে অন্যের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতেন তাঁরা। কল রেকর্ড বলছে গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ২৩৪ ঘণ্টারও বেশি কথা হয়েছে সিয়া ও চেতনের।

    পুলিশ আরও দাবি করেছে, ফোনে কথা বলার পাশাপাশি শহরের একটি ক্যাফেতেও তাঁদের একাধিকবার দেখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেখানেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণে এই তথ্যগুলিতেই জোর দিচ্ছে পুলিশ।

    তদন্তকারীদের দাবি, সিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হলেও মানতে পারেননি কনে নিজে। তাই রাস্তা থেকে সরানোর জন্য প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করতে শুরু করেন তিনি নিজেই।

    উল্লেখ্য, বিয়ের আগে ৬ জুন বালি সফরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরিকল্পনা ছিল প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটও। কিন্তু মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছে কেতন জানতে পারেন তাঁর পাসপোর্ট নেই। ফলে শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায় পুরো সফর। পরে তদন্তে অভিযোগ ওঠে, পাসপোর্টটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    কেতনের পরিবারের অভিযোগ, যাত্রার আগে গাড়িতে চারজন একসঙ্গে ছিলেন এবং সব নথি একটি পাউচে রাখা ছিল। বিমানবন্দরে পৌঁছে দেখা যায়, অন্য সবার পাসপোর্ট থাকলেও কেতনেরটাই নেই। তদন্তকারীদের দাবি, পরে জানা যায় পাসপোর্টটি ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এখন এই ঘটনাকে আলাদা ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে।

    অভিযোগ, ১৮ জুনের আগেও পুনের ওই তরুণকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ৩১ মে লোহাগড় দুর্গে সিয়া কেতনকে একটি খাড়া পাহাড়ের কিনারা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, কেতন কাছের একটি ঝোপ ধরে পড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যায়। নিজের উদ্দেশ্য আড়াল করতে সিয়া সাপের গল্প বানিয়ে নিজের হবু বরকে ভুলিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, আরও ২-৩ বার পুনের ওই ব্যবসায়ীকে মারার চেষ্টা করেছিল ওই প্রেমিক যুগল। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও ১৮ তারিখ সফল হয়ে যায় তাঁদের প্ল্যান।

    ১৮ জুন হবু বর কেতন আগরওয়ালকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে যান সিয়া। পুলিশ দাবি করেছে, চেতনও আলাদা ভাবে সেখানে পৌঁছন। এর পরে দুর্গের এক উঁচু জায়গা থেকে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান কেতন। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা বলে জানানো হলেও পরে তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ-সহ সমস্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। তদন্তে প্রকাশ, ওই তরুণকে খাদে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন সিয়া ও চেতন।

  • Link to this news (এই সময়)