অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বেতন বৈষম্য। বাজেটেও মেলেনি বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস। বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করার হুঁশিয়ারি নদিয়া জেলায় ন্যাশনাল হেলথ মিশনের কাজে যুক্ত কর্মীদের। এ দিন জেলার সমস্ত ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীরা জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাস-এর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সমকাজে সমবেতন এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে ফার্মাসিস্ট শোভন ঘোষ জানান, ২০০৬ সাল থেকে এনএইচএম প্রজেক্ট চালু হওয়ার পর থেকে তাঁরা চুক্তিবদ্ধ কর্মী হিসেবে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছেন। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যে তাদের বেতনের বৈষম্য দীর্ঘদিনের। বর্তমান সরকার তাঁদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও গত ২২ তারিখের বাজেটে কোনও ইতিবাচক ঘোষণা না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়েছেন।
ফলস্বরূপ, নদিয়া জেলার সমস্ত ব্লক ও পুরসভার এনএইচএম, এনইউএইচএম এবং ১৫ ফিন্যান্সের কর্মীরা ২৫ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে স্থায়ী কর্মীদের মতোই দায়িত্ব পালন করছি আমরা। কিন্তু আমাদের বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ নিয়ে কিছু ভাবা হচ্ছে না। আমাদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য। তাই কর্মবিরতি করতে হচ্ছে।’ তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই আন্দোলনের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য কোনও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা বন্ধ করা হবে না। রিপোর্ট তৈরি, পোর্টালের কাজ বা সাধারণ এনসিডি-র মতো কম জরুরি কাজগুলো তাঁরা বন্ধ রাখবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের অন্য জায়গায় রেফার করবেন। কিন্তু পাবলিক বা জরুরি পরিষেবা সচল থাকবে।
নদিয়া জেলার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই একই দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের এই কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসনিক কাজে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাস জানিয়েছেন, আজকে ফার্মাসিস্টরা সকলে একটি ডেপুটেশন দিয়েছে। তাদের এই দাবি দেওয়া আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।