তারাতলার গোডাউনের প্ল্যান ত্রুটিপূর্ণ বলেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে। আর বুধবারের ঘটনার পরে কলকাতা পুর এলাকায় তৃণমূল জমানায় ছাড় পাওয়া সব নির্মাণ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এ দিন তারাতলার ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে এসে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভার (KMC) আগের বোর্ডে ছাড়পত্র পাওয়া সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রতিটি নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে একটি প্রতিনিধিদল। সেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যসচিব।
তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের শেড ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে এ দিন। বহু শ্রমিক চাপা পড়ে যান। সেনা, NDRF, সিভিল ডিফেন্স, দমকল, পুলিশ ও KMC যৌথ ভাবে উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। এখনও অবধি ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ দিন নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কলকাতা পুর এলাকায় আগের সরকার যে প্ল্যান অনুমোদন করেছে, আমি KMC-কে নির্দেশ দিয়েছি, আন্ডার কনস্ট্রাকশন কমার্শিয়াল বিল্ডিং বা জলাশয় বুজিয়ে যে সব অনুমোদন মিলেছে, সে সব অডিট হবে। ৩১ জুলাই অবধি নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। অডিটে PWD, সিভিল ডিফেন্স, ফায়ার, কলকাতা পুলিশ ও KMC থেকে টিম বানিয়ে দেওয়া হবে। চিফ সেক্রেটারি গাইডেন্স দেবেন। ডাইরেকশনের টিম তৈরি হবে। সেই টিম সাইট প্ল্যান, বিল্ডিং প্ল্যান ও স্পট ভিজ়িট করে রিপোর্ট বানাবে।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, কলকাতা মেট্রো ও কলকাতা পোর্টের থেকে লিজ নেওয়া জমিও তদন্তের আওতায় আসবে। জলাজমি বা পুকুর বুজিয়ে কোনও নির্মাণ কাজ হলে, তা-ও তদন্তের আওতায় আসবে। মুখ্য সচিবের তদারকিতে নবান্নের তৈরি বিশেষ কমিটি অডিট করবে। তবে যেখানে হাসপাতাল, ফায়ার ব্রিগেডের কাজ হচ্ছে, সেখানে নির্মাণ কাজ স্থগিত থাকবে না। কারণ এগুলি ইমার্জেন্সি সার্ভিস।