• রাজনীতিকে ঢাল করেই কি বিপুল সম্পত্তি? সোনা উদ্ধারের পরে টিনাকে নিয়ে হাজার প্রশ্ন
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২৬
  • টিনা সাহা ভৌমিককে নিয়ে এখন হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলা জুড়ে। জেলায় কান পাতলেই শোনা যায়, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা আদায়-কাঁচকলায়। জেলায় খানিক পাত্তা কম পেয়েই কলকাতার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান তিনি। তবে কলকাতার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দহরম-মহরম বজায় রাখতে অসুবিধা হয়নি কোনও।

    তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে তাঁর বাড়ি থেকে। সেটা কি কলকাতার নেতাদের ঘনিষ্ঠতার সূত্রেই? প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরকে এই সময়ের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। টিনা সংবাদ মাধ্যমে দাবি করেছেন, সব গয়নারই বিল রয়েছে, বিয়ে বা অন্য অনুষ্ঠানে পাওয়া।

    জেলার রাজনীতিতে টিনা একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল আগেই। কিন্তু দলের অন্দরে ক্রমাগত বিরোধের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তার জেরে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ খুইয়েছিলেন আগেই। তার পর থেকেই তিনি জেলা ছেড়ে কলকাতার শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। ফলও মিলেছে।

    টিনা ২০১৮ থেকে টানা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য। তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের হাত ধরেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থান বলে শোনা যায়। কিন্তু ‘গডফাদারের’ সঙ্গে মতপার্থক্য হতেও সময় লাগেনি। অভিযোগ, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তেহট্ট কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন গৌরীশঙ্কর। সেই সময়ে বিরোধী শিবিরে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন টিনা। কেন? শুধুই টিকিটের জন্য?

    কৃষ্ণনগর জেলা সাংগঠনিক সভানেত্রী মহুয়া মৈত্রের সঙ্গেও টিনার সম্পর্ক অম্লমধুর। কৃষ্ণনগর মহিলা সংগঠনের সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল টিনাকে। পরে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পদ হারানোর পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন টিনা। জেলা পরিষদের একজন সাধারণ সদস্য হয়েও খোদ জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তিনি।

    ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে রানাঘাট সাংগঠনিক পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পান সব্যসাচী দত্ত। তার পর থেকেই টিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তাঁর। অভিযোগ, তেহট্ট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রয়াত বিধায়ক তাপস সাহার শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মহুয়া মৈত্র-সহ জেলার প্রথম সারির নেতাদের ঘোর বিরোধিতায় সম্ভব হয়নি। এমনকী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও নদিয়া জেলায় দলের হয়ে তেমন ভাবে প্রচারে দেখা যায়নি টিনাকে।

    জেলায় কোণঠাসা হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি টিনা। অভিযোগ, চলতি মাসেই নদিয়া জেলা পরিষদের বোর্ডে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সভাধিপতির বিরুদ্ধে মোট ২৭ জন সদস্যকে নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনার নেপথ্যে তাঁর হাত ছিল বলে মনে করেন অনেকে।

    কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল 'বিপর্যয়'। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ৩ কেজিরও বেশি সোনার গয়না। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— রাজনীতির আড়ালে আদতে নিজের আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে তাঁর? অনেকটা এমন কথাই বলেছেন কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান তথা পলাশীপাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক রুকবানুর রহমান। তাঁর কথায়, ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। কলকাতার নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতেন।’ তবে সোনা উদ্ধার নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। শুধু বললেন, ‘শুনেছি। আইন আইনের পথে চলবে।’

  • Link to this news (এই সময়)