নির্মাণকাজে ত্রুটি, নাকি কনস্ট্রাকশন প্ল্যানেই গন্ডগোল? ঠিক কী কারণে বুধবারের বিপর্যয়? তারাতলায় বেহরা ব্রাদার্সের গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় কি গলদ গোড়াতেই? মহাবিপর্যয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠে আসছে একের পর এক জল্পনা, তত্ত্ব। বি/২ ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের কাছে গড়ে ওঠা নির্মীয়মাণ কনস্ট্রাকশনের ধ্বংসস্তূপ এ দিন নিজের চোখে দেখে এসেছেন Indian Institute of Engineering Science and Technology, Shibpur (IIEST)-এর প্রাক্তন রেজিস্ট্রার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়প্রমাণ ত্রুটি রয়েছে এই নির্মাণকার্যে, না হলে এই বিপর্যয় হয় না— এমনটাই মতামত তাঁর। এই সময় অনলাইনের সঙ্গে যা তিনি ভাগ করে নিলেন বিশদে।
মূলত, প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমিতে স্টিলের স্ট্রাকচারের উপরে একটি কংক্রিটের নির্মাণ তৈরি করা হচ্ছিল। কোনও জিনিসের গোডাউন বা ওয়্যারহাউস তৈরি করা হলে বর্তমানে এই ধরনের স্টিলের স্ট্রাকচার তৈরি করে কনস্ট্রাকশন হয়ে থাকে। ভেঙে পড়া স্ট্রাকচারের ডিজ়াইন বা নকশা কি আদৌ ঠিক ছিল? বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তর, ‘এই ডিজ়াইন যদি ঠিক হতো, তা হলে কোনওভাবেই এ ভাবে এটা ভেঙে পড়তো না। যে ভাবে বিমগুলো বেঁকে গিয়ে ভেঙে পড়েছে, সেটা হতো না।’
বিমান জানান, এ রকম ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ ডিজ়াইনের জন্য দু’টি কারণে বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা। এক, পুরো ডিজ়াইনটি ঠিক করে করা হয়নি। অথবা, ডিজ়াইন ঠিক করে করা হলেও কাজের সুপারভিশন বা তদারকি ঠিক করে করা হয়নি। ডিজ়াইন এবং কাজের তদারকিতে বড় ধরনের ‘অবহেলা’ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
এই কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণের প্ল্যান কলকাতা পুরসভা থেকে অনুমোদন পেল কী করে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিমানের বক্তব্য, ‘এত বড় নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদনের জন্য পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান কমিটিতে গিয়েছে। কোনও একজন আর্কিটেক্ট এটা করেছেন। কোনও একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার প্ল্যান বানিয়েছেন। এর পরে বিল্ডিং কমিটি সেটা দেখেছেন।’ তাঁর অভিযোগ, ‘এ রকম হতে পারে বিল্ডিং কমিটি এটা অ্যাপ্রুভাল দেয়নি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে এটা পাস করিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথবা, নজরদারি করা হয়নি, কোনও আন্ডার টেবিল লেনদেন হয়েছে।’ প্রতিটি ধাপেই কোনও গাফিলতি থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমনকী, পুর এলাকায় ‘টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং অ্যাক্ট’ ওই জমিতে গোডাউন বা স্টোরেজ বা ওয়্যারহাউস করা যায় কি না, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টিও এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই জমিটি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের। সেটিকে লিজে দেওয়া হয়েছিল বেহরা ব্রাদার্স নামে ওই কোম্পানিকে। সেই জমিতে বিশাল মাপের এই নির্মাণ কাজের জন্যে সঠিক পদ্ধতিতে সয়েল টেস্টিং হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিমান বলেন, ‘এটা একটা চূড়ান্ত গাফিলতির জন্যেই হয়েছে। এ রকম অবকাঠামোগত বিপর্যয় ভাবা যায় না।’