আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপির রাজ্য সভাপতির আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু এরই মাঝে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানাদিঘির জগদাবাদ গ্রামে। এলাকায় দু'বারের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত স্বরূপ রাণা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর তা নিয়েই উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। উঠেছে বিজেপি পার্টি অফিসে ডেকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২৩ লক্ষ দেওয়ার জন্য মুচলেখা লিখিয়ে ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। না দিতে পারলে বাড়ি ভাঙচুর, বাড়িতে হামলা ও পরিবার সহ গ্রাম থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মানসিক চাপ ও আতঙ্কে পরিবার-কে বাঁচাতে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন বর্ধমান ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ তথা ব্লক তৃণমূল কর্মী স্বরূপ রানা।
মৃতের ভাই শ্যামল রানা জানান, গত বেশ কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মী স্বরূপ রানাকে হুমকি দিচ্ছিলেন। এমনকি বাড়িতে চড়াও হয়েও গালিগালাজ, প্রাণনাশ ও ঘরছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। এর মধ্যেই গত ২২ জুন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তাঁকে বিজেপি অফিসে ডেকে হুমকি দেয় এবং ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। শেষমেশ অনেক অনুরোধে ২৩ লক্ষ টাকা তাঁকে আগামী ৭ দিনের মধ্যেই দিতেই হবে এই মর্মে মুচলেকা লিখিয়ে মুক্তি দেওয়া হয় বলে মৃতের পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের সদস্য ও এলাকার মানুষ জানাচ্ছেন, এরপরই ২৩ জুন সকালে মানসিক চাপ ও আতঙ্কে বিষ খান রানা। পরিবারের সদস্যদের কথা ভেবে তাঁদের বাঁচাতে স্বরূপ রানা বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেই অভিযোগ। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার স্বরূপ রানার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগের পরিপেক্ষিতে সামগ্রিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, যে এলাকায় অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে বলে পরিচিত স্বরূপ রানা বর্ধমান ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির ২০১৩-২০১৮ খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ ও ২০১৮-২০২৩ মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ এবং বর্তমান বর্ধমান ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সদস্য হিসাবে পদে আসীন ছিলেন। তার ভাই জানান, সমবায়ে সামান্য একটি কাজ করতেন তিনি। এখন গোটা পরিবার কার্যত ভেসে যাবে। তারা এর বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান। এই ঘটনাকে সমর্থন করছেন না বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও। মণ্ডল সভাপতি রাজকুমার সাউ জানান, ''এই ঘটনা একেবারে কাম্য নয়। তিনি দু'বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আমরা পরিবারের পাশে আছি। আমরা আইনের শাসন চাই।'' তিনি জানান, খবর পেয়ে কয়েকদিন আগে কয়েকজনকে শোকজ করেছিলেন তিনি। তারপর এই দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এলাকার বাসিন্দা রীণা ঘোষাল জানান, ''মৃত স্বরূপ অত্যন্ত মৃদু স্বভাবের স্বজ্জন মানুষ ছিলেন। অনেকের উপকার করেছেন। এটা মানা যায় না।''