আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বুধবার দুপুরে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সাক্ষী কলকাতা। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে আটকা পড়েন একাধিক মানুষ। আহত বহু। গুদামের লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচে কতজন চাপা পড়েছেন, তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে গুদামটি ঠিক কাদের? সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, সরকারি সংস্থার থেকে জমি লিজ নিয়ে কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল।
সূত্রের খবর, বেহরা ব্রাদার্স নামক একটি বেসরকারি চায়ের কোম্পানি ৩০ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়েছিল। গুদামঘর ও হিমঘরের এর জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল ওই জমি। মোট ৬০ জন কাজ করতেন ওই গুদামে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সেখানে গুদাম থাকলেও তা ভেঙে ফের নতুন করে তৈরি করা হচ্ছিল তিন তলার গোডাউন। সেই নির্মীয়াণ তিনতলা গুদামই আজ ভেঙে পড়ে। লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে শোনা যাচ্ছে মানুষের আর্তনাদ। দেখা যাচ্ছে কারওর পা, কারওর দেহ। এলাকায় প্রচুর সেনাবাহিনী হাজির। গ্যাস কাটার দিয়ে কাটা হচ্ছে টিন, ছাদ ঢালাই। তিন তলার ছাদ দোতলা ও এক তলার উপর চাপা পড়ে রয়েছেন মানুষ। আবার কোথাও মাথা থেঁতলে চাপা পড়ে রয়েছেন অনেকে। চলছে বেলচা কোদাল দিয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও এনডিআরএফ-এর টিম উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। লোহার বিম টিন সরিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছেন কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। টর্চ দিয়ে চলছে দেহ উদ্ধারকাজ।
বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী। কথা বলেন দুর্ঘটনাস্থলে থাকা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে। খোঁজ-খবর নেন তিনি। ঘটনাস্থলও ঘুরে দেখেন। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তারাতলায় দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১২ থেকে ১৮ জন ভিতরে আটকে রয়েছে। দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করা চলছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।