কচুরিপানার গ্রাসে বিদ্যাধরী নদীর খাঁড়ি, মৎস্যজীবীদের দৈনিক রোজগারে 'লকডাউন'
News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
কচুরিপানার দখলে বিদ্যাধরী নদীর খাড়ি, চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তর ২৪ পরগণার হাড়োয়া ও মিনাখাঁ ব্লক সংলগ্ন বিদ্যাধরী নদীর খাড়ির বেহাল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং কচুরিপানার দাপটে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একসময় এই নদীর খাড়ি দিয়ে নিয়মিত জল চলাচল করলেও বর্তমানে অধিকাংশ অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গিয়েছে। নদীর গভীরতাও আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে জল থাকলেও স্রোতের অভাবে তা দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় জমে থাকছে। স্রোত না থাকায় নদীর জলে পচন ধরছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে ভেসে আসা বিভিন্ন বর্জ্য কিংবা মৃত প্রাণীর দেহ কচুরিপানার জঙ্গলে আটকে থেকে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে নদী সংলগ্ন এলাকার পরিবেশও ক্রমশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। বিদ্যাধরী নদীর এই খাড়ির ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু মৎস্যজীবী। কিন্তু বর্তমানে নদীর বুকে কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়ায় নৌকা চালানো এবং মাছ ধরা দুটোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মৎস্যজীবীদের আয়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ অবস্থার কারণে মশার উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, দূষিত জলের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নদী থেকে কচুরিপানা সরিয়ে খাড়ির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে শুধু পরিবেশের উন্নতি হবে না, উপকৃত হবেন দুই ব্লকের বহু সাধারণ মানুষও।