দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ঘরে ফিরল অনামিকার অগ্নিদগ্ধ নিথর দেহ। লখনউয়ের আলিয়াঞ্জের বহুতলে সোমবারের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই বহুতলেই ছিল একটি অ্যানিমেশন স্টুডিও, সেখানেই কর্মরত ছিলেন হাওড়ার অনামিকা। জানা গিয়েছে, যে সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তখন প্রতিষ্ঠানে ২২-২৩ জন কর্মী কাজ করছিলেন। আগুন দ্রুত নিচের তলা থেকে উপরতলায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, ফলে কোনওভাবেই বেরিয়ে আসতে পারেননি স্টুডিওর ৫-৭ জন কর্মী। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁদের।
জানা গিয়েছে, অভিজাত আলিয়াগঞ্জ স্কিম এলাকার সেক্টর ডি-তে অবস্থিত বহুতলের আগুনে যে ১৫ জন প্রাণ হারান, তাঁদের মধ্যে ছিলেন হাওড়া জগৎবল্লভপুর গড়বালিয়া গ্রামের ২৭ বছরের তরুণী অনামিকা সামন্ত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন বছর আগে লখনউয়ের ওই সংস্থায় অ্যানিমেশন আর্টিস্ট হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন অনামিকা। দুর্ঘটনার পর অনামিকার বাড়িতে খবর এসে পৌঁছয়। খবর পেয়ে, মঙ্গলবার ভোরেই আকাশপথে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন অনামিকার বাবা, মা এবং নিকট পরিজনেরা।
মঙ্গলবারই লখনউ পৌঁছে যান তাঁরা। এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বুধবার সকালে জগৎবল্লভপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছায় অনামিকার প্রাণহীন দেহ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গ্রামের মেয়েকে চোখের দেখা দেখতে আত্মীয় পরিজনের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও বাড়িতে এসে পৌঁছন। বাড়ির সামনে অনামিকার দেহ এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনামিকার পরিজনেরা। কিছু সময় পরেই স্থানীয় শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয় দেহ।
প্রসঙ্গত, মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে পড়ুয়ারা-সহ অন্তত ১৫ জন নিহত এবং সাতজন আহত হন। উত্তর লখনউয়ের আলিয়াগঞ্জের উষা মেহতা মার্গে অবস্থিত বহুতলের দ্বিতীয় তলাতেই বেশিরভাগ ভুক্তভোগী আটকা পড়েছিলেন, যেখানে অ্যানিমেশন সেন্টারে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করত। তবে কীভাবে এই আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত বহুতল থেকে বেশ কয়েকজন লাফিয়ে পড়েন প্রাণ বাঁচাতে। ঘটনার তদন্ত চলছে।