তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আহত হয়েছেন ১৮ জন৷ এসএসকেএমে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তারাতলায় বন্দরের জমি, সেই লিজ নিয়ে গুদাম তৈরির কাজ চলছিল। বেহরা ব্রাদ্রার্সের নামে লিজ নেওয়া হয়েছিল জমিটি। প্রবল বৃষ্টিতে সম্ভবত নরম হয়ে পড়ে নির্মীয়মাণ ছাদ।
তারাতলার দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুরসভা এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এ দিন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু এবং ১৮ জন আহত হওয়ার ঘটনার পর এই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে কলকাতা পুরসভা থেকে জানানো হয়েছে, ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনের নকশাতেই ত্রুটি ছিল৷ তা সত্ত্বেও কীভাবে ওই নকশা পাস হল তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা থেকে এই নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল৷
এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চর শম্ভুনগর এলাকার বাসিন্দা দুর্বাশা মাল্লা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসারের হাল ধরতেই প্রায় পাঁচ মাস আগে কাজের সন্ধানে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ পুলিশের মাধ্যমে তাঁর আহত হওয়ার খবর পরিবারে পৌঁছায়। খবর পেয়েই উদ্বেগে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। দুর্বাশা মাল্লাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর পরিবারে রয়েছেন দুই মেয়ে, এক ছেলে এবং দৃষ্টিহীন দাদা। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চর শম্ভুনগর গ্রাম থেকে মোট চার জন শ্রমিক ওই নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। দুর্বাশা মাল্লার খোঁজ মিললেও এখনও পর্যন্ত বাকি তিন শ্রমিকের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের নাম চন্দ্ররমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী এবং সুবাস চৌধুরী। তাঁদের খোঁজ না মেলায় পরিবার-পরিজন ও গোটা এলাকায় উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবার ও আত্মীয়দের সুবিধার্থে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। জরুরি তথ্য জানতে যোগাযোগ করা যেতে পারে ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫ নম্বরে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।