'বাবু কই? ও তো...', তারাতলায় কারখানার ভাঙা ছাদের তলায় থেঁতলে মৃত্যু, ছেলে নেই এখনও জানেন না মা
News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
তারাতলায় কারখানার ছাদ ভেঙে মৃত্যু, শোকস্তব্ধ ভাটপাড়ার পূর্বাশা। বুধবার সকালে কারখানায় ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরীর। এই দুঃসংবাদ বাড়িতে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মৃতের বাড়িতে ভিড় জমান প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণা চৌধুরী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তাঁর রোজগারের উপরই নির্ভর করত গোটা সংসার। আচমকা এই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবার কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
প্রতিবেশী অমিত সাউ জানান, সংসারে পাঁচ থেকে ছ’জন সদস্য রয়েছেন। আগে জুট মিলে কাজ করলেও আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে পরবর্তীকালে যে কাজ পেতেন, সেটাই করতেন কৃষ্ণা চৌধুরী। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতেন। এই ঘটনায় পূর্বাশা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃতের পরিবারের পাশে দ্রুত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দাঁড়ানো উচিত। একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখে পড়েছে। এখন কীভাবে চলবে গোটা সংসার, বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই।
জানা গিয়েছে, ওই কারখানায় শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন তিনি। এদিন দুর্ঘটনার পরই খবর আসে প্রতিবেশীদের কাছে। অসুস্থ মা মা যশোদা চৌধুরী এখনও পুরোপুরি জানেন না ছেলে (বাবু) আর নেই। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থও, শ্বাসকষ্ট হওয়ায় কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১২’টার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোড। কলকাতা বন্দর এলাকার এই ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের দু’দিকে সার সার গুদাম। সূত্রের খবর, তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর আটকে রয়েছেন এখনও বেশ কয়েক জন। তাঁরা সংখ্যায় কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গুদামের লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে সেনা, দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলের সদস্যরা কাজ করছেন যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।।