• শান্তিপুরের বুকে প্রথম! নিকাশি জল ফিল্টার হয়ে মিশবে গঙ্গায়, দূষণ ঠেকাতে অভিনব উদ্যোগ
    News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
  • : গঙ্গার দূষণ রুখতে এবং এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল নদিয়ার শান্তিপুরে। শান্তিপুর ব্লকের হরিপুর অঞ্চলের নৃসিংহপুর ফেরিঘাট চত্বরে তৈরি করা হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক ‘ডি-ওয়ার সাইড’ বা ডিসেন্ট্রালাইজড নিকাশি জল পরিশোধন প্রকল্প। এটি এই ব্লকে এ ধরনের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় একটি ইউনিট।

    পৌরসভা বা স্থানীয় এলাকার নর্দমার জল সরাসরি গঙ্গায় পাড়ে নদীকে দূষিত করে তোলে। কিন্তু এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত ড্রেনের জলকে বিশেষ পদ্ধতিতে পরিশোধন করে তবেই গঙ্গায় ফেলা হবে। প্রকল্পের তদারকিকারী সরকারি ইঞ্জিনিয়ার জানান, জল পরিশোধনের জন্য এখানে বিশেষ চেম্বার বা স্তর তৈরি করা হয়েছে। নর্দমার নোংরা জল প্রথমে একটি মূল চেম্বারে এসে জমা হবে এবং সেখানে নোংরা থিতিয়ে পড়বে। এরপর জলটি অন্য চেম্বারে যাবে, যেখানে গ্রাভেল বা পাথরের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে তা স্বাভাবিক নিয়মে পরিশ্রুত হবে। এইভাবে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত জলই শেষ পর্যন্ত গঙ্গায় গিয়ে পড়বে। জমাকৃত নোংরা আবর্জনাগুলিও নিয়মিত বিরতিতে পরিষ্কার করা হবে।

    প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। তবে ইঞ্জিনিয়ারের মতে, এটি একটি মডেল এস্টিমেট হওয়ায় কাজ শেষে আসল খরচ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। জল পরিশোধনের পাশাপাশি এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ সৌন্দর্য্যায়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং নদীর পাড় ক্ষয়রোধ করতে প্রকল্প এলাকায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এছাড়া, পরিবেশের কথা চিন্তা করে এখানে কোনও মাছ চাষ করা হবে না। ভবিষ্যতে সংলগ্ন ফুটপাথ বা পেভমেন্টের উপর একটি মনোরম রেস্তোরাঁ তৈরির প্রস্তাবও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা সবুজায়নের মাঝে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।

    এদিন এই বিশেষ প্রকল্পটির কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আসেন শান্তিপুরের বিধায়ক স্বপন কুমার দাস। তিনি পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিধায়ক জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের মূল কাজ সম্পন্ন হবে এবং বর্ষার সমস্ত জল এখানে এসে জমা হবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শহরে গঙ্গার জল যেভাবে দূষিত হচ্ছে, তা রুখতে এই ধরণের প্রকল্প অত্যন্ত উপযোগী। এই ডি-ওয়ার সাইডের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি আগামী দিনে শান্তিপুরের সাধারণ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)