• তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল প্রমাণে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার উদ্যোগ ঋতব্রত শিবিরে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৫ জুন ২০২৬
  • তাঁরাই প্রকৃত বা আসল তৃণমূল। এই দাবি নিয়ে এবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিধায়করা। জানা গিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করার জন্য ইতিমধ্যেই সময় চেয়েছে বিদ্রোহী তৃণমূল গোষ্ঠী। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছেন। এবার কমিশন তাঁদের সময় দিলেই তাঁরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাবেন।

    ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নিউটাউনের বৈঠকে তাঁরা দলের যে জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন, তার তালিকাও কমিশনকে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পরিষদীয় শক্তির বিচারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক রাশও যে তাঁদের হাতেই রয়েছে সে বিষয়টি জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নজরে আনবেন ঋতব্রতরা।  ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’ বা ঋতব্রত শিবিরের এক বিধায়ক জানিয়েছেন, তাঁরা কমিশনের কাছে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন। কমিশনের দপ্তর থেকে অনুমতি মিললেই তাঁরা দিল্লি গিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা ঘনিষ্ঠ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘আইন সম্পর্কে ওঁদের অনেক জ্ঞান রয়েছে। ওঁরা যেখানে খুশি যেতে পারেন।’

    বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, কমিশন দেখা করার সময় দিলে আগামী সপ্তাহেই ঋতব্রত শিবিরের ১০ জনের এক প্রতিনিধিদল দিল্লি যাবেন। তাঁরাই কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। কেন তাঁদের ‘আসল’ তৃণমূলের মর্যাদা দেওয়া উচিত, সে বিষয়টি প্রমাণ-সহ তুলে ধরবেন কমিশনের আধিকারিকদের সামনে।

    উল্লেখ্য,মঙ্গলবারই ঋতব্রত-সহ তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের বেশ কয়েক জন কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, নতুন তৃণমূলের কর্মসমিতির ৩০ জন সদস্য-সহ পদাধিকারীদের নাম এবং সোমবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী সিইও দফতরে জমা দেন তাঁরা। ঋতব্রত শিবির মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নিয়েছে। সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা কমিশনের কাছে কিছু নথিপত্র জমা দিয়েছি। তবে সেগুলি প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়।’

    এদিকে, ঋতব্রতদের বৈঠকের পর সোমবার রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় কর্মসমিতির পাল্টা তালিকা জমা দিয়েছিলেন। ওই তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মমতার ওই পদক্ষেপের পরেই তৎপরতা বৃদ্ধি পায় ঋতব্রত শিবিরে। এর আগে ৫ জুন তৃণমূলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে বড় ধরনের রদবদল করেছিলেন মমতা। রদবদলের পর দেখা যায়, অনেকেই নতুন করে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গত সপ্তাহে ফের তালিকায় রদবদল করেন মমতা। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের নাম বাদ দেন নেত্রী। পরিবর্তে তালিকায় রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম যোগ করেন। তার পর নতুন তালিকা পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)