চলন্ত লোকাল ট্রেনে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড! জানা গিয়েছে, ট্রেন চলাকালীন বচসায় জড়ান দুই যাত্রী। দরজা বন্ধ করা নিয়ে দু’জনের তর্কাতর্কি শুরু হয়। সেখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পকেট থেকে ছুরি বের করকে সহযাত্রীকে কোপাতে শুরু করেন এক ব্যক্তি। চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই প্রবল রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু হয় ২২ বছর বয়সি যুবকের। গোটা ঘটনায় চলছে তদন্ত।
ঘটনার সূত্রপাত মুম্বইয়ের চার্চগেট-নাল্লাসোপারা ফাস্ট লোকালে। গত সোমবার রাতের বেলায় ট্রেনে উঠেছিলেন মায়াঙ্ক রমেশ লোহার নামে এক ব্যক্তি। আন্ধেরি স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন তিনি। ট্রেন ছাড়তেই ওই কামরায় থাকা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে মায়াঙ্কের বচসা শুরু হয়। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কামরার দরজা বন্ধ করা হবে কিনা, সেই নিয়ে শুরু হয় তুমুল ঝামেলা। কিন্তু বচসা থেকে ক্রমে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু’জনে। আচমকাই ছুরি বের করে মায়াঙ্কের উপর কোপ দিতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। কামরায় অন্যরা থাকলেও বাঁচাতে পারেননি।
ট্রেনটি বোরিভেলি স্টেশন পৌঁছতেই লাফিয়ে বেরিয়ে যান অভিযুক্ত। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢোকার পর কামরা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় মায়াঙ্কের দেহ। আরপিএফ, জিআরপি, চিকিৎসকরা কামরা থেকে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান মেডিক্যাল রুমে। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে মায়াঙ্কের। পরে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁর দেহ, ময়নাতদন্তের জন্য। গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আমজনতা। চলন্ত ট্রেনের মধ্যে এইভাবে হামলার ফলে প্রশ্ন উঠছে লোকালের নিরাপত্তা নিয়েও।
হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও অভিযুক্তকে ধরতে পারেনি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ তুলে দেওয়া হয়েছে পুলিশের হাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। কিন্তু মায়াঙ্কের হত্যাকারী এখনও অধরা। তাকে পাকড়াও করতে আপাতত শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। অবশেষে বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রোশান সুবর্ণ। পশ্চিম রেলের কর্তারাও নড়েচড়ে বসেছেন এই ঘটনার পর। জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।