নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম অধিবেশন চলছে বিধানসভায়। তাও আবার বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা। অথচ বুধবার দুপুরে দেখা গেল, প্রায় ফাঁকা অধিবেশন কক্ষ! বিরোধীদের বেঞ্চ ভরভরন্ত থাকলেও শাসক শিবিরের হাতে গোনা কয়েকজনের উপস্থিত। অধিবেশন চালানোর জন্য ন্যূনতম ৬ মন্ত্রীও নেই! একেবারে নজিরবিহীন পরিস্থিতি, যাকে পরিষদীয় ভাষায় বলা হয়, ‘কোরাম’ বা সাময়িক অচলাবস্থা। এতে তো অধিবেশন থমকে যাওয়ার কথা। তবে স্পিকারকে এমন সংকট থেকে বাঁচিয়ে দিলেন দুই মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও শংকর ঘোষ।
বুধবার দুপুর ঠিক ১২টার পরই তারাতলায় বড়সড় দুর্ঘটনার খবর মেলে। নির্মীয়মাণ গুদামের তিনতলার শেড ভেঙে বিপর্যয় ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন অনেকে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তাঁদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। নিমেষে ব্যস্ত এলাকাটির পরিবেশ বদলে যায়। এ সময়ে বিধানসভায় চলছিল বাজেটের উপর বক্তৃতা। তারাতলা দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই নিমেষে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায় অধিবেশন কক্ষ। বিজেপি বিধায়ক, মন্ত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। যদিও বিরোধী বিধায়করা সকলে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘আসল’ তৃণমূলের তরফে মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান আনসারি উঠে দাঁড়িয়ে জানান যে ৬ জন মন্ত্রী বিধানসভায় নেই, এই অচলাবস্থা বা কোরাম পরিস্থিতিতে অধিবেশন থামিয়ে দিতে হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনে ৬জন মন্ত্রী উপস্থিত থাকতেই হয়। কিন্তু বুধবার দুপুরে তারাতলা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অধিকাংশই সেখানে ছুটে যান। বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫ জন। দেখা যায়, বিজেপির ২০৭ জন বিধায়কের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ২৫ জন। এই অবস্থায় কোরাম নিয়ে আখরুজ্জামানের বক্তব্য সমর্থন করেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে স্পিকারকে জানান, তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের কথা ঠিক। কিন্তু আজ বিপর্যয় ঘটেছে, তাই সকলে সেখানে। আজকের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অধিবেশন চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।
ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির কথা জানাজানি হতে তারাতলামুখী হয়েও দ্রুত বিধানসভায় ফিরে আসেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। আসেন বিধায়ক উমেশ রাই, কল্যাণ চক্রবর্তীরাও। কোরাম সংকট হওয়া থেকে কোনওক্রমে রক্ষা পায় অধিবেশন। ৬ মন্ত্রী ও অন্যান্য বিধায়কদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলে আলোচনা।