• একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ পুরসভার সাফাইকর্মীদের, দেওয়া হল স্মারকলিপি
    বর্তমান | ২৫ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, হলদিয়া: মজুরির রেট বাড়ানো-সহ একাধিক দাবিতে আজ, বুধবার দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখালেন হলদিয়া পুরসভার সাফাই কর্মীরা। শুধু মজুরি বাড়ানোই নয়, সময়মতো বেতন না পাওয়া নিয়েও তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। রাজ্য বাজেটে পুরসভার সাফাই কর্মীদের মজুরির রেট বাড়ানো বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে কোনও উল্লেখ না থাকায় তাঁরা হতাশ বলেই জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁরা পুরসভার ঠিক কোন ক্যাটাগরির কর্মী সেই বিষয়েও স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকার দাবি জানিয়েছেন। এদিন বিক্ষোভের মাধ্যমে সাফাই কর্মীরা এই বিষয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। বিগত তৃণমূল সরকারের কাছে সাফাই কর্মীরা বারবার আবেদন করেও কোনও সুফল মেলেনি বলে অভিযোগ। এদিন বিক্ষোভের সময় পুরসভার সাফাই কর্মীরা লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আংশিক কর্মবিরতি করে এদিন সকালে হলদিয়ার দুর্গাচকে পুরানো এসডিও অফিস এবং দুপুরে সিটি সেন্টারে পুরসভা অফিস চত্বরে বিক্ষোভ দেখান প্রায় কয়েকশো সাফাইকর্মী। পুর প্রশাসক তথা মহকুমা শাসক সুরভি সিংলার কাছে এদিন স্মারকলিপিও জমা দেন তাঁরা। এরপর সাফাই কর্মীদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসেন পুর প্রশাসক। তিনি বলেন, সাফাই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের দাবিগুলি নগরোন্নয়ন দপ্তরে চিঠি লিখে জানাচ্ছি।

    সাফাই কর্মীরা জানিয়েছেন, ২০০৫ সাল থেকে পুরসভার শ্রমিক হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে দৈনিক মজুরির রেট ২০২ টাকা। দীর্ঘদিন ওই রেট বাড়েনি। অথচ জিনিসপত্রের দাম ক্রমেই বাড়ছে। কীভাবে কম মজুরিতে সংসার চলবে? তাছাড়া কোন প্রকার শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে সেটিও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। পুর কর্তৃপক্ষ কখনও ওয়েজ এমপ্লয়মেন্ট লেবার, কখনও সাফাই কর্মী, কখনও আবার ১০০ দিনের প্রকল্পের শ্রমিক বলছে। পুর আধিকারিকরা এই বিষয় গুরুত্ব দেননি বলেও অভিযোগ সাফাই কর্মীদের। পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ, সাফাই কাজের ন্যূনতম গ্লাভস, জুতো সহ অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিকমতো মেলে না। তাঁদের ডিউটির সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়া হয় যখন তখন। ফলে আয় ক্রমেই কমছে। সাফাই কর্মীরা এদিন চিকিৎসার জন্য ইএসআই কার্ড, পরিচিতির জন্য আই কার্ড, ছাঁটাই বেনিফিট এবং পেনশনের দাবি জানান। এছাড়া জানানো হয়, সাফাই কর্মীদের মধ্যে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রেণি বিভাগেরও প্রয়োজন রয়েছে। সেই অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ দরকার। তাঁদের বক্তব্য, সাফাই কর্মী পুরুষদের জামা, প্যান্ট এবং মহিলাদের শাড়ি দিতে হবে। হলদিয়া পুরসভায় একসময় ১২০০ সাফাই কর্মী ছিলেন। বর্তমানে বয়স জনিত কারণে কমে সেই সংখ্যা এক হাজারের নীচে নেমে গিয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাফাই কর্মীদের মজুরি নির্ধারণ করে স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি(সুডা)। তাঁদের কাছে একাধিকবার এই দাবির কথা জানানোও হয়েছে। এছাড়া সুডা ছাড়াও হলদিয়া পুরসভা নিজস্ব তহবিল থেকেও অনেক সময় সাফাই কর্মীদের জন্য খরচ করা হয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
  • Link to this news (বর্তমান)