তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ, গ্রেপ্তার সুপারভাইজার সহ তিনজন
বর্তমান | ২৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড়োসড়ো দুর্ঘটনা দক্ষিণ কলকাতার তারাতলায়। একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হল ৫ জনের। এই ঘটনায় বহু শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে ইতিমধ্যেই। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন সুপারভাইজার।
জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই ব্রেসব্রিজের কাছে তারাতলার ওই গোডাউনটিতে কাজ চলছিল। ভিতরে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। আচমকা হুড়মুড়িয়ে ছাদটি ভেঙে পড়ায় আটকে পড়েন অনেক শ্রমিক। এরপর স্থানীয়দের থেকে খবর যায় পুলিশে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পুলিশ, পাশাপাশি এসে পৌঁছয় দমকল এবং এনডিআরএফের টিম। উদ্ধার কাজে নামানো হয় সেনা। সেই সঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছে চারটি হাইড্রোলিক ক্রেনও। উদ্ধার কাজে হাত লাগান স্থানীয়রাও। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আটকে পড়া শ্রমিক আর্তনাদ বারবার শোনা গিয়েছে। লোহার বিম কেটে শ্রমিকদের উদ্ধার করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যাস কাটার। সেই সঙ্গে উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে স্নিফার ডগ। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খা। পাশাপাশি রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। এই ঘটনার জেরে নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম এবং হেল্পলাইন নম্বর। যা হল – ১০৭০,৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩২২১৪৩৫২৬,০৩৩২২৫৩৫১৮৫
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে এসএসকেএমে। যাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাঁচজনকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন উড়িয়ে ঘটনাস্থল রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নেন সেনা আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে যান। অন্যদিকে হাসপাতালে গিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও।
কী ভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কোনও ব্যবস্থা ছিল কী না উঠছে সেই প্রশ্ন। এখনও এই নিয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনাস্থলে কাজ করছে হোমসাইডের গোয়েন্দারা।