তারাতলার গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মামলা রুজু করল কলকাতা পুলিশ। একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। লালবাজার সূত্রের খবর, এই ঘটনার তদন্তে এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, কাদের গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্ত চলছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ নম্বর ধারা (অবহেলার কারণে মৃত্যু), ১১০ নম্বর ধারা (অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা), এছাড়াও ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
তারাতলায় যে জমিতে গোডাউন তৈরির কাজ চলছিল, সেটা আসলে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের জমি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ৩০ বছরের লিজ়ে এই জমি M/s Behera Brothers-এর হাতে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে লিজ় শুরু হয়েছিল। বহুতল গুদাম তৈরির জন্য এই জমি দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে নির্মাণের প্ল্যান সংক্রান্ত ত্রুটি ছিল। গোটা বিষয়টি তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে বলে তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন।
এ দিকে পুলিশ-প্রশাসন সূত্রের খবর, আপাতত উদ্ধারকাজকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনা, কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, NDRF-সবাই মিলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। খোদ ঘটনাস্থলে ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনাস্থলে ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধের পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আলো এবং সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত এসএসকেএম-এর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাত পর্যন্ত চলছে উদ্ধারকাজ। কোথাও কেউ আটকে রয়েছেন কিনা তা বোঝার জন্য ড্রোন ও স্নিফার ডগকে কাজে লাগিয়েছে প্রশাসন।