বর্ষা এলেই আতঙ্কে দিন কাটে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, তীব্র স্রোত এবং লাগাতার ভাঙনের ফলে বছরের পর বছর ধরে বিপদের মুখে পড়ছেন বহু মানুষ। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থেকে অগ্রদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদী তীরবর্তী অঞ্চলে এই সমস্যা নতুন নয়। বিশেষ করে চর কবিরাজপুর, অগ্রদ্বীপ-সহ একাধিক গ্রামে নদীভাঙনের জেরে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, চাষের জমি এবং জীবিকা হারিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বর্ষার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরে বিধানসভায় দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কাটোয়া বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কাটোয়া থেকে অগ্রদ্বীপ পর্যন্ত ভাগীরথী নদীর বেশ কয়েকটি অংশে এখনও পর্যাপ্ত নদীবাঁধ বা পাড় সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বহু পরিবারের জন্য। বিশেষ করে চর কবিরাজপুর-সহ নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই দ্রুত নদীর পাড় সংস্কার ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের ফলে বহু বিঘা উর্বর কৃষিজমি ইতিমধ্যেই ভাগীরথীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। কেউ গ্রাম ছেড়েছেন, কেউ আবার নতুন করে জীবন গড়ার চেষ্টা করছেন। অথচ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।গ্রামবাসীদের কথায়, বর্ষার মেঘ দেখা দিলেই শুরু হয় উদ্বেগ। কখন নদীর পাড় ভেঙে আরও কতটা জমি বা বাড়িঘর নদীতে চলে যাবে, সেই আশঙ্কা তাড়া করে বেড়ায় তাঁদের। রাতের ঘুম পর্যন্ত উড়ে যায় অনেকের। বিশেষ করে নদীর একেবারে ধার ঘেঁষে থাকা পরিবারগুলোর কাছে বর্ষাকাল মানেই অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের সময়।বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ বিধানসভায় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই কাটোয়া থেকে অগ্রদ্বীপ এবং চর কবিরাজপুর-সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে জরুরি ভিত্তিতে নদীর পাড় মেরামত ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।
তাঁর মতে, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে শুধু বহু পরিবারকে ভিটেমাটি হারানোর হাত থেকেই রক্ষা করা যাবে না, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতিও অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের একটাই দাবি ভাগীরথীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এখন তাঁদের নজর প্রশাসন ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বর্ষার আগে আদৌ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার।