তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্যা টিনা ভৌমিক সাহার নাম জানতে পারে পুলিশ। এরপর সোমবার রাতে নদিয়ার নজিরপুরে টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে চলে চিরুনি তল্লাশি। পুলিশের অপর একটি দল নাজিরপুরের পার্শ্ববর্তী কিশোরপুরে নেত্রীর বাবার বাড়িতেও অভিযান চালায়। রাত দু’টো থেকে ভোর পাঁচ’টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে দুটি বাড়ি থেকে প্রায় ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। যদিও টিনা ভৌমিক সাহা এবং তাঁর স্বামী সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না।
টিনা ভৌমিক সাহা ২০১৮ থেকে এখনও পর্যন্ত নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য। তৃণমূল জামানায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার চাকরি। দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরির অভিযোগ তুলেছিলেন তেহট্টের প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহা। তাঁর বাবা বস্ত্র ব্যবসায়ী, শ্বশুরবাড়ি কৃষক পরিবার, পরবর্তীকালে একটি লজ তৈরি করেন। এছাড়াও সুবিশাল বাড়ি, গাড়ি, বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তৃণমূলের এই নেত্রী নদিয়া জেলার সভানেত্রী ছিলেন। সেই সুবাদে বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর কলকাতায় যাতায়াত। সেই সূত্রে তৃণমূলের কলকাতার নেতা নেত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা।
একইভাবে সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। বেশ কয়েকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সব্যসাচী দত্তকে টিনা ভৌমিক সাহার আমন্ত্রণে নদিয়ায় আসতে দেখা গিয়েছে, একইভাবে সব্যসাচী দত্তের আমন্ত্রণেও টিনা ভৌমিক সাহাকে কলকাতা যেতে দেখা গিয়েছে। কিছুদিন আগেই নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অনাস্থা আনতে উদ্যোগী হন টিনা ভৌমিক। তেহট্টের প্রয়াত বিধায়ক তাপস সাহার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়। মহুয়া মৈত্রের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভাল ছিল না। এক সময়ে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর থেকেই কলকাতার নেতা নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন টিনা। মূলত তাদের মদতেই এলাকায় নিজস্ব দাপট তৈরি করেছিলেন।