এই সময়, কালনা: বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা করাতে এসে কালনার সাতগাছির তাঁতিপাড়া মল্লিক বাগান এলাকায় এক দম্পতিকে মা–বাবা বানিয়ে এ দেশেই থেকে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। এর পরে সেই পরিবারেরই এক ছেলের সাহায্যে অন্য ছেলের নথি ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ভোটার ও আধার কার্ড। এই জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশের মহম্মদ রফিকুল ইসলাম রাতারাতি হয়ে যান কালনার বাসিন্দা সিরাজ শেখ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তে নেমেছে কালনা থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রফিকুল, তাঁর স্ত্রী এবং স্থানীয় অন্য এক বাসিন্দাকে বুধবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
১৬–১৭ বছর আগে চিকিৎসা করাতে এসে আর বাংলাদেশে ফিরে যাননি রফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী জরিনা শেখ। তাঁরা কালনার তাঁতিপাড়া এলাকায় ধানের পারনে কাজ শুরু করেন। রফিকুল নিজের মুখেই জালিয়াতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এখানকারই এক দম্পতিকে মা-বাবা পাতাই। তাঁদেরই এক ছেলে সেলিম শেখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর এক ভাই সিরাজের নথি দিয়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে দেন। তার পর থেকে আমি সিরাজ শেখ হয়ে যাই। এ বার ভোটও দিয়েছি।’ তাঁর স্ত্রী জরিনা জানান, তাঁর ভোটার কার্ড না-থাকলেও স্বামীর ভুয়ো নথির ভিত্তিতে আধার কার্ড করিয়ে নিয়েছেন
অভিযোগ, রফিকুলকে ‘সিরাজ’ সাজাতে গিয়ে আসল সিরাজ শেখের নাম খাতায়-কলমে বদলে ‘মীরাজ শেখ’ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মীরাজ হয়ে যাওয়া আসল সিরাজ শেখ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। ভাই সেলিমের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সে-ও বলে কিছু জানে না। রফিকুল আমার মা-বাবাকে বাবা ও মা পাতিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে এসে।’ তবে নিজের নাম কেন তিনি সংশোধন করাননি, সেই প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে সেটাই তাঁর ভুল হয়েছে। এ দিকে, অভিযুক্ত ভাই সেলিম শেখের খোঁজ মেলেনি এলাকায়।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হানিফ শেখ নামে এলাকার আরও এক বাসিন্দাকে থানায় নিয়ে গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী আকলিমা শেখ জানান, তাঁদের আসল বাড়ি বনগাঁর পাঁচপোতা এলাকায়। অন্ধ্রপ্রদেশে মাছের কাজ সেরে তাঁরা কালনায় ধানের কাজে এসেছিলেন। আকলিমার দাবি, তাঁর নিজের নথি ঠিক থাকলেও তাঁর স্বামীর নাম বাদ পড়েছিল, যা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাঁদের থানায় আনা হয়েছে তাঁদের সব নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে কালনায়। বিজেপির স্থানীয় নেতা সঞ্জীব দাস শাসকদলকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এ বার কালনায় তিন বাংলাদেশি মুসলমানের হদিশ মিলল, যাঁরা তৃণমূলের সহযোগিতাতেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে এবং ভুয়ো নথি বানিয়েছে।’