• ভয় পাবেন না, আমরা আছি! হ্যান্ড মাইকে ভরসা পুলিশের
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২৬
  • এই সময়: ‘চিন্তা করবেন না... আমরা আছি। আপনাদের বের করে আনব’— ধ্বংসস্তূপের অন্ধকার দিয়ে যখন পুলিশ হ্যান্ডমাইকে এই অভয়বার্তা ভিতরে পাঠানোর চেষ্টা করছে, তখন তারাতলার ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর থেকে ভেসে আসছে ক্ষীণ আর্তনাদ, ‘আমাদের বাঁচান... বেঁচে আছি, এখনই বের করে নিয়ে যান।’

    যা শুনে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা আবারও আশ্বাস দিলেন, ‘চিন্তার কোন কারণ নেই। বাইরে আমাদের সঙ্গে দমকলের কর্মী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় লোকজনও রয়েছেন। সবাইকে বের করা হবে। দয়া করে একটু ধৈর্য রাখুন।’

    তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে বুধবার দুপুরে একটি পাঁচ তলা নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন অন্তত ৫০ জন শ্রমিক। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উদ্ধারকাজে নামানো হয় সেনাকেও। ভারী লোহার বিম ও কংক্রিটের চাঁই সরানোর জন্য একাধিক হাইড্রোলিক ক্রেন এবং আর্থমুভার ব্যবহার করা হয়।

    লোহার কাঠামো কেটে আটকে পড়াদের বের করতে রাত পর্যন্ত অনবরত চলছে গ্যাস কাটার। উদ্ধার করতে না–পারা পর্যন্ত ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকরা যাতে কোনও ভাবেই মানসিক বল হারিয়ে না ফেলেন, তার জন্য লাগাতার বাইরে থেকে করা হয় মাইকিং। পাঠানো হয় অক্সিজেন মাস্ক, জলের বোতলও। একইসঙ্গে ধ্বংসস্তূপের ঠিক কোন জায়গায় প্রাণের স্পন্দন রয়েছে, তা নিখুঁত ভাবে চিহ্নিত করতে এনডিআরএফ-এর ‘স্নিফার ডগ’ কেও কাজে নামানো হয় প্রশাসনের তরফে। তবে, যে ভাবে গোডাউন‍ের ভিতরে শ্রমিকরা আটকে ছিলেন তাতে তাঁদের বাইরে বের করে আনতে বেগ পেতে হয়েছে প্রশাসনকে।

    সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের আলো কমে আসায় উদ্ধারকাজে যাতে কোনও বাধা না আসে, তার জন্য প্রশাসন গোটা চত্বরে হাই-মাস্ট ও বিশেষ আলোর ব্যবস্থা করেছে। উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঘটনাস্থলে দুপুর থেকেই প্রস্তুত ছিল সারিবদ্ধ অ্যাম্বুল্যান্স। ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের নিয়ে একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে এসএসকেএম এবং আ‍লিপুরের দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে গোডাউন চত্বরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও রাখা হয়েছিল চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    ওই গুদামের ভিতরে আটকে ছিলেন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা মীর আলি। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো গুদামে নির্মাণকাজ চলছিল। আজও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে কারখানার বিশাল লোহার কাঠামো এবং কংক্রিটের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।’

    মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধুলোর চাদরে ঢেকে যায়। শেডের নীচে আমরা যাঁরা কাজ করছিলাম, ভিতরে আটকে পড়ি।’ স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডলের কথায়, ‘পুলিশ আসার আগে আমরা চেষ্টা করি, শ্রমিকদের বাইরে আনার। কিন্তু, যে ভাবে সবাই আটকে ছিল‍েন, তাতে আমাদের পক্ষে কাউকে বের করা সম্ভব ছিল না।’

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছিলেন অনেকেই। তাঁদেরই একজন সুমন ওঝা বলেন, ‘মাসি ওই গুদামে কাজ করছিলেন, দু’ঘণ্টা পরে তাঁর খোঁজ পেয়েছি।’ পুলিশ, সেনা ও দমকলের যৌথ অভিযানে রাত পর্যন্ত অধিকাংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা জারি রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, লাগাতার খোঁজ চলছে তারও।

  • Link to this news (এই সময়)