বীরু দাস (ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী)
ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের যে গোডাউনে এতবড় বিপর্যয় ঘটে গেল, তার উল্টোদিকের একটা গোডাউনেই আমি কাজ করি। তখন টিফিন টাইম চলছিল আমাদের। বেরিয়েছিলাম গোডাউন থেকে। আচমকাই প্রবল একটা শব্দ, তারপরেই দেখি, লোকজন রাস্তায় আতঙ্কে ছোটাছুটি করছেন। সবার মুখে একটাই কথা, ‘ভেঙে গিয়েছে, ভেঙে গিয়েছে।’
তখনও বুঝে উঠতে পারিনি, কী ভেঙে পড়েছে? কৌতূহল নিয়েই কয়েক পা এগিয়ে যাই। দেখি, কারখানার ঢালাই দেওয়া ছাদ হুড়মুড়িয়ে নেমে এসেছে মাটিতে। টিফিন টাইমে গোডাউন থেকে বেরোনোর সময়ে প্রথমে ভাবছিলাম যে বড় ভারী কিছু পড়ে গিয়েছে। কিন্তু এটা যে সামনের গোডাউনের গোটা ছাদটা ভেঙে পড়েছে, সেটা মাথাতেই আসেনি।
কয়েক দিন আগেই ওই গোডাউনের দোতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ হচ্ছিল। সেই ছাদ এই ভাবে ভেঙে পড়বে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। ওই গোডাউন চত্বরে যে শ্রমিকরা কাজ করেন, তাঁদের কয়েকজন বরাত জোরে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েননি। তাঁরা বলছিলেন, জনা পঞ্চাশেক লোক চাপা পড়ে আছে ভাঙা ছাদের নীচে।
আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন মিলে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে কাউকে বের করা যায় কি না, সেই কাজ শুরুর চেষ্টা করি। ভেঙে পড়া ছাদটা এমন এবড়ো–খেবড়ো অবস্থায় পড়ে ছিল, কোনও দিক থেকেই কিছু করা যাচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে একজনের কাছে থানার ফোন নম্বর ছিল। তিনিই ফোন করে থানায় খবর দেন।
ছাদের নীচ থেকে বেশ কিছু মানুষের আর্তস্বর শোনা যাচ্ছিল, ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে। আমরা কয়েক জন জলের বোতল জোগাড় করে চাপা পড়ে থাকা মানুষগুলোর কাছ পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা করি। শেষমেশ পৌঁছতে পারিনি ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে। সেই আফশোসটা কুরে কুরে খাচ্ছে।