• তারাতলায় ধ্বংসস্তূপে অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে প্রাণের খোঁজ সেনার, মৃত ৮, গ্রেপ্তার গুদাম মালিক-সহ ৫
    এই সময় | ২৫ জুন ২০২৬
  • তারাতলা বিপর্যয়ের পরে প্রায় ২১ ঘণ্টা পার। এখনও ধ্বংসস্তূপে প্রাণের খোঁজে চলছে তল্লাশি। আনা হয়েছে সেনার অত্যাধুনিক গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রেডার। রাতভর উদ্ধারকাজ চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আরও পাঁচ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, এই বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গুদাম মালিক-সহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

    সারা রাত ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধারকাজ তদারক করেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্তা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

    বৃহস্পতিবার সকালেও ধ্বংসস্তূপে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। সেনার বিশেষ রেডার (Ground-Penetrating Radar) ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের কোথায় কেউ চাপা পড়ে রয়েছে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

    মাটির তলায় কোথাও কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না, তা বোঝা যায় রেডারের মাধ্যমে। সাধারণত তুষারধস বা মাটিতে ধস নামলে উদ্ধারকাজে এই বিশেষ রেডার ব্যবহার করে সেনা। কেউ জীবিত থাকলে পালস ডিটেক্ট করা সম্ভব হয় এই যন্ত্রের মাধ্যমে। তেমন সিগন্যাল এলে নির্দিষ্ট জায়গায় ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ছে উদ্ধারকারী দল। পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপের তলায় ক্যামেরা পাঠিয়ে, সঙ্গে যুক্ত স্ক্রিনের মাধ্যমে ভিতরে কেউ আটকে রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।

    উদ্ধারকারী দল সূত্রে খবর, নীচে চাপা পড়া মানুষদের অনেকরই মোবাইল এখনও সচল রয়েছে। সেই মোবাইলের টাওয়ার লোকেট করেও চলছে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান। এই ভাবেই এ দিন সকালে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বার করে আনা সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে মোট উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১। এর মধ্যে SSKM-এ ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন ২৩। সরকারি সূত্রে খবর, ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের। তাঁরা হলেন— কৃষ্ণ চৌধুরী (৩০), রোহিত চৌধুরী (৪০), রাহুল চৌধুরী (১৭) চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), পাপ্পু রজক (৪০), আজ়গর হোসেন (৫৫), সাহিল সর্দার (১৭) এবং ঘি কুমার (১৭)।

    তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের এই গোডাউনের লিজ় নিয়েছিল বেহেরা ব্রাদার্স। বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোডাউন মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা। এ ছাড়া আরও চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজ়ার গুলজার হুসেন, গোডাউন লেবার সাপ্লায়ার দিবাকর ভাণ্ডারী এবং আব্দুল হামিদ। ঘটনায় আর কারা যুক্ত সেই খোঁজে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।

  • Link to this news (এই সময়)