• শুভেন্দুর নির্দেশের পরেই কাকদ্বীপে সিপিএম দম্পতি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার ১০ অভিযুক্ত
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৫ জুন ২০২৬
  • দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে ২০১৮ সালের বহুচর্চিত দেবপ্রসাদ দাস ও তাঁর স্ত্রী উষারানি দাস হত্যা মামলায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর এফআইআরে নাম থাকা ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬, ৩০২, ২০১ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। দীর্ঘদিন তদন্ত চলার পর সম্প্রতি মামলাটিতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়। একযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

     ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন অশোক মণ্ডল, চন্দন গিরি, মেঘনাথ ডাকুয়া, মাধব কান্দার, নিকুঞ্জ নস্কর, শিবপ্রসাদ মণ্ডল, অমিত মণ্ডল, গোকুল জানা,

    নারায়ণচন্দ্র পতি এবং শেখ মনিরুল। সকলেই কাকদ্বীপ থানার বুধাখালি গ্রামের বাসিন্দা।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মেনে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জের তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন এবং নিহত সিপিএম কর্মী দেবপ্রসাদ দাসের ছেলে দীপঙ্কর দাস। সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধাখালি গ্রামের এক প্রান্তে মুড়িগঙ্গা নদীর ধারে বাস করতেন দেবপ্রসাদ দাস ও তাঁর পরিবার। পেশায় তিনি ছিলেন মৎস্যজীবী। মৃত্যুর কিছুদিন আগে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। গ্রামের একাংশের দাবি, তাঁকে বলা হয়েছিল তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত না হলে মাছ ধরা সম্ভব হবে না। ওই ঘটনার কিছুদিন পরই দেবপ্রসাদ ও তাঁর স্ত্রীর দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।

    দীর্ঘ আট বছর পর এই গ্রেপ্তারিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদেরও আশা, এবার মামলার পূর্ণ সত্য সামনে আসবে এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)