তারাতলা কাণ্ডে কয়েক ঘণ্টাতেই অ্যাকশন! গভীর রাতে গ্রেপ্তার গুদামের মালিক, ধৃত বেড়ে পাঁচ
প্রতিদিন | ২৫ জুন ২০২৬
তারাতলা কাণ্ডে পুলিশের জালে ‘অভিশপ্ত’ গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা। বুধবার গভীর রাতে তারাতলা এলাকার একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে লালবাজার। এমনকী অভিযুক্ত শম্ভুনাথের বিরুদ্ধেও অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি। সেই সময় হাতেনাতে ওই গুদামের মালিককে গ্রেপ্তার করে লালবাজার। অন্যদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অয়ন ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হুসেন, লেবার সাপ্লায়ার দিবাকর ভাণ্ডারি-সহ আরও দুজনকে।
জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই ধৃত এই চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা একাধিক অসঙ্গতি পান বলে খবর। এরপরেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ দিকে রাতেই তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দলে রয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত। গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ। তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। জানা গিয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যাবেন সিটের আধিকারিকরা। গোটা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ধৃত পাঁচজনকেও জেরা করতে পারেন। শুধু তাই নয়, ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবারের পর আজ, বৃহস্পতিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য। কেন্দ্র এবং রাজ্যের উদ্ধারকারী দল কাঁধেকাধ মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। তবে এখনও চারিদিক ছড়িয়ে ধ্বংসস্তূপ! ছড়িয়ে রয়েছে বড় বড় লোহার বিম। সিমেন্টের চাঙড়। ওই সমস্ত চাঙর সরিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কেউ ভিতরে আটকে রয়েছেন কি না। সব দিক নিশ্চিত হয়ে তবেই কাজ শেষ করতে চাইছে উদ্ধারকারী দল। গোটা রাত ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি মনিটরিং করেছেন মন্ত্রী তথা বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ। এছাড়াও ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।