লখনউ: অনিল বিশ্বকর্মা। জৌনপুর জেলার বাসিন্দা। মাথায় চাপানো দানসামগ্রী। গত বছর অক্টোবরে ২০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সাত দিন পর পৌঁছেছিলেন অযোধ্যায়। সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরা। রামলালাকে তাঁরা উৎসর্গ করেছিলেন প্রায় তিন কিলোগ্রাম ওজনের রুপোর মালা, চরণ পাদুকা। বিশ্বকর্মা পরিবারের অভিযোগ, আট মাস পরও সেই দানসামগ্রীর কোনো রসিদ মেলেনি। রামমন্দিরে দানের নগদ অর্থ ও বহুমূল্য অলংকার ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার এরকম ভূরিভূরি অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বুধবার সামনে এল নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই অনিয়মের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিল একটি বেসরকারি অডিট সংস্থা। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ট্রাস্টের কাছে পেশ করা রিপোর্টে তাদের হুঁশিয়ারি ছিল, শুধুমাত্র নগদ অনুদান হিসাবেই আনুমানিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আসতে চলেছে। পাশাপাশি থাকবে ভক্ত দেওয়া গয়না সহ অন্যান্য উপহার। এই বিপুল নগদ ও মহার্ঘ দানসামগ্রী সামলান। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা ‘চূড়ান্ত অপেশাদার’। অনুদানের ‘পদ্ধতিগত কোনো রেকর্ড’ পর্যন্ত নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও হুঁশ ফেরেনি মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের। ডবল ইঞ্জিন সরকারের নাকের ডগায় এই সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দানই কি নয়ছয় হয়েছে? এমন প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে জনমানসে।
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পথ সুগম করেছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই ২০২০ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠিত হয়। তারাই নির্মাণ করছে রামমন্দির। সেখানেই ভক্তদের দানসামগ্রী নয়ছয়! এ নিয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। ২৪ ঘণ্টা আগেই অন্তর্বর্তী রিপোর্ট যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের কাছে পেশ করেছে সিট। তবে তাতে কাকে প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে কিংবা কত নগদ ও অলংকার উধাও, তা জানা যায়নি। কিন্তু ট্রাস্টের গাফিলতি যে ছিলই, তা সামনে এসেছে এদিন।
ছ’বছর আগে ট্রাস্টকে পেশ করা রিপোর্টে ঠিক কী বলেছিল সেই অডিট সংস্থা? অনিয়মের ঝুঁকির আঁচ পেয়েই তাদের পরামর্শ ছিল—লেনদেন, ডেটা ব্যবস্থাপনা, কর্মী পরিচালনা ও অন্যান্য সম্পদের জন্য প্রতিটি স্তরে আদর্শ কার্যপ্রণালী (এসওপি) প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যথাযথ স্টক রেজিস্টার সহ দানসামগ্রী লেনদেনের এন্ট্রি বজায় রাখা হোক। ট্রাস্টে হাজার হাজার কর্মী নিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ‘হিউম্যান রিসোর্স’ বা এইচআর ডিপার্টমেন্টের অনুপস্থিতির বিষয়টিও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া ব্যাংক সমন্বয়, অ্যাকাউন্টিং ডেটা এন্ট্রি এবং এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম)-এর জন্য যোগ্য কর্মীও প্রয়োজন। সেই রিপোর্ট এদিন প্রকাশ্যে চলে আসায় ট্রাস্টের পদাধিকারীদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ, ছ’বছর আগে অডিট সংস্থা সুপারিশ করা সত্ত্বেও ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে এসওপি সংক্রান্ত কোনো উল্লেখ নেই। নেই কোনো ইন্টারনাল অডিট রিপোর্টও। তবে এবিষয়ে ট্রাস্ট বা তার সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ নেতা চম্পত রাই এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।