সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী দুর্নীতি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)৷ সূত্রের খবর, এই রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ বাবরি মসজিদ-রামমন্দির মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২০ সালে ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ তৈরি হয়েছিল৷ সেই সময় থেকে শুরু করে এ যাবৎ রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷
সূত্রের খবর, এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ নেই, এমনই জানানো হয়েছে সিট–এর প্রাথমিক রিপোর্টে৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও৷ দিনের পর দিন যে ভাবে বিপুল অঙ্কের নগদ এবং দানের সামগ্রী চুরি হয়েছে, ট্রাস্টের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া তা সম্ভব নয়, দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সিট রিপোর্টে৷ এই মর্মেই অযোধ্যার রামমন্দির ট্রাস্ট ভেঙে নতুন পরিচালন পর্ষদ গড়ার সুপারিশও করেছে সিট৷
প্রসঙ্গত, রামমন্দিরে আসা ভক্তরা যে বিপুল ধনরাশি এবং গয়না দান হিসেবে দেন, তা রক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো মন্দিরে নেই, এই মর্মে রামমন্দির ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই সতর্ক করেছিল একটি বেসরকারি অডিট সংস্থা৷ মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সময়েই এই বেসরকারি অডিট সংস্থাকে দিয়ে পরিকাঠামো বিশ্লেষণের কাজ করানো হয়েছিল৷
সিট আধিকারিকরা দেখেছেন, নগদ প্রণামী সংগ্রহ এবং তার হিসেব রক্ষার মধ্যে বড়সড় গরমিলের আশঙ্কা এবং বিপদের কথা নিজেদের অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল বেসরকারি অডিট সংস্থা৷ তার পরেও কেন এই বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া হলো না, প্রশ্ন তুলেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন৷ তার আগে রামমন্দিরের প্রণামী চুরির তদন্ত রিপোর্ট দেখে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই নজর সবপক্ষের৷ এর মধ্যেই এক্স হ্যান্ডলে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের অভিযোগ, ‘এফআইআর ছাড়া সিটের তদন্ত অনেকটা তীর ছাড়া ধনুকের মতো৷ সিট তদন্তের সূত্রে যা প্রকাশ পাচ্ছে, তার থেকে অনেক বেশি কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে৷’