পরিবারের লোকজনের মুখের হাসিটুকুই সম্বল। দু’বেলা খাবার জুটুক, ছেলে-মেয়েগুলো পড়াশোনা করে বড় হোক— সেই উদ্দেশ্যেই অন্যান্য দিনের মতো বুধবার সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন ভাটপাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরী ও শ্যামনগরের বাসিন্দা পাপ্পু কুমার রজক। সেই শেষ যাত্রা। তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনই ছিল দু’জনের ঘটনাস্থল। এক বিপযর্য় কেড়ে নিল দু’টি প্রাণ, সংকটে দুই পরিবার।
ভাটপাড়ার বাসিন্দা নির্মাণ শ্রমিক কৃষ্ণা চৌধুরী গত পাঁচ মাস ধরে তারাতলায় একটি সংস্থার অধীনে কাজ করছিলেন। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে শেষ বেরিয়ে ছিলেন তিনি। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় তাঁর। সেই কথাই পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ যোগাযোগ। কৃষ্ণা চৌধুরীর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সুচেতা চৌধুরী, দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত বৃদ্ধা মা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন কৃষ্ণা। বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে, মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় কোনও কাজ করতে পারেন না। সংসারের সমস্ত খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের চিকিৎসার খরচ বহন করতেন কৃষ্ণাই। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন সুচেতা দেবী। চোখে জল নিয়ে সুচেতা বলেন, ‘এ বার আমাদের কী হবে! সরকার সাহায্য না করলে এই পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারব না।’
অন্যদিকে, কৃষ্ণার বৃদ্ধা মা-ও সরকারের কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সরকারের তরফে চাকরির ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা হলেও বাঁচবে পরিবারটি। মেয়ে তিনটি টিউশন পড়িয়ে সংসারে সামান্য সাহায্য করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, শ্যামনগরের বাসিন্দা পাপ্পু কুমার রজক মাত্র এক মাস আগে ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সোমবার সকালে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরোলেও বিকেলের মধ্যেই আসে মৃত্যুসংবাদ। তারাতলা থানা থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার কথা জানানো হয়। মৃত পাপ্পুর পরিবারের সদস্য অশোক রজক বলেন, ‘এখন এই পরিবারের কী হবে! সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াক। পাশাপাশি এই ঘটনার সঠিক তদন্তও হোক।’