রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অবিমৃশ্যকারিতার জন্যই তারাতলার মতো ঘটনা ঘটেছে। সব জায়গায় টাকা নিয়ে নিয়ে আজ মৃত্যুপুরী বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁর এ সবের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট রাজ্য সরকারের হাতে এসেছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে পাঁচ জনকে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারাতলায় যে নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে সেটির বিল্ডিং প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। তাতে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের যোগ তো আছেই, পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও জড়িত বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিল্ডিং প্ল্যানের নথিতে যে নথিতে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে, তা-ও বিধানসভায় সকলকে দেখান তিনি। কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন আইন তো আসছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জেল খাটাব।’
অবৈধ নির্মাণে বর্তমান রাজ্য সরকার জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, রাজারহাট-নিউ টাউন, বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা, সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, বজবজ এবং কলকাতা পুর এলাকায় সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করা হবে। তাই ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সমস্ত নির্মাণকাজ।
তারাতলার ঘটনাকে বিগত সরকারের ‘পাপের ফল’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, উদ্ধারকাজ চালানোর কোনও সামগ্রীই গত ১৫ বছরে বদলানো হয়নি। উন্নত মানের যন্ত্রপাতিও ছিল না। তার ফলে উদ্ধারকারী বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গার্ডেনরিচে ১৪ জন মারা গিয়েছিল। কাউকে উদ্ধার করতে পারেননি আপনারা। এনডিআআরএফ এবং সেনাকে এতদিন ঢুকতেই দেননি। ভারী বিম কাটার মেশিন রাখেনি আগের সরকার। আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। কোনও পেশাদার টিম নেই। কেন রাজ্যের এই সর্বনাশ করে গিয়েছেন আপনারা? লোহা কাটার মেশিন ১৫ বছরে বদলানো হয়নি। বিহার রেজিমেন্ট উন্নত যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করেছে।’