স্মার্ট মিটার বসতেই ৭২ হাজার টাকার 'মাইনাস ব্যালেন্স'! আতঙ্কে গ্রাহকরা, কী বলছে বিদ্যুৎ দফতর?
News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
শান্তিপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ দফতরের স্মার্ট মিটার বসানোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও অসন্তোষ। সম্প্রতি বেশ কিছু গ্রাহকের মোবাইলে হঠাৎ করেই বিপুল অঙ্কের ‘মাইনাস ব্যালেন্স’ বা বকেয়া টাকার মেসেজ আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কারও মোবাইলে ৭২,০০০ টাকা, আবার কারও ক্ষেত্রে ১৪,০০ কিংবা ১,০৪৫ টাকার মত অস্বাভাবিক মাইনাস ব্যালেন্স দেখানো হচ্ছে। এই ধরনের ‘ভূতুড়ে বিলের’ কারণে সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম উড়ে গেছে এবং তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই সমস্যার প্রতিবাদে এবং সমাধানের দাবিতে ‘শান্তিপুর বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি’ এবং ‘সারা বাংলা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি’-র প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপুর ইলেকট্রিক সাপ্লাই অফিসে যান। বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির পক্ষে সুজিতবাবু জানান যে, গত শুক্রবার বিকেল থেকেই তাদের কাছে গ্রাহকদের একাধিক ফোন আসতে শুরু করে। কিন্তু শনি ও রবিবার অফিস বন্ধ থাকায় তারা গ্রাহকদের নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরে আসেন। সেখানে জানা যায়, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন গ্রাহক একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
গ্রাহকদের পক্ষ থেকে হাকিম আলি শেখ এবং বাসুদেব হালদার জানান, মে, জুন ও জুলাই মাসে তাদের পোস্টপেইড বিল সম্পূর্ণ পরিশোধ করা সত্ত্বেও, নতুন করে প্রিপেইড সিস্টেমে যাওয়ার সময় টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এই মাইনাস ব্যালেন্স দেখাচ্ছে। বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা গ্রাহকদের মৌখিক আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই সমস্যাটি সাময়িক এবং আগামী ৩-৪ তারিখের মধ্যে নতুন বিল জেনারেট হওয়ার সময় এটি ঠিক হয়ে যাবে। তবে বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি না দেওয়ায় গ্রাহকদের মনের ভয় কাটছে না।
গ্রাহক সমিতির অভিযোগ, যখন এই স্মার্ট মিটার প্রথম শান্তিপুরে বসানো হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল এটি কোনও প্রিপেইড মিটার নয়, বরং মিটারের একটি আধুনিকীকরণ মাত্র। কিন্তু এখন গ্রাহকদের না জানিয়েই এটিকে প্রিপেইড সিস্টেমে রূপান্তর করা হচ্ছে। সমিতির বক্তব্য, সাধারণ ও কম শিক্ষিত মানুষের পক্ষে মোবাইলের ইংরেজি মেসেজ পড়ে বোঝা বা প্রিপেইড ব্যালেন্সের হিসাব রাখা অত্যন্ত কঠিন। এর ফলে গ্রাহকদের সবসময় একটা বাড়তি টাকা অগ্রিম রিচার্জ করে রাখতে হবে, যা গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর।
যদিও এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ দফতরের তরফ থেকে ক্যামেরার সামনেও সরাসরি বলতে না চাইলেও তারা জানান, “পোস্টপেইড থেকে প্রিপেডে ট্রান্সফার হওয়ার পর শান্তিপুরের ক্ষেত্রে একটি আন্দোলনের পর আবার অনেকেই পোস্টপেডে ফিরে যান সেই সময় কিছু গোলযোগ হয়েছে এই সংখ্যাটা শান্তিপুরের ক্ষেত্রে ৬৬ জন বিষয়টি এ মাসের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে তবে এক্ষেত্রে কোনও ভাবেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।”
গ্রাহক সমিতি ও সাধারণ মানুষের দাবি— এই বৈষম্যমূলক এবং ত্রুটিপূর্ণ স্মার্ট মিটার অবিলম্বে বাতিল করা হোক। তার পরিবর্তে পূর্বের ডিজিটাল মিটার ও পোস্টপেইড কানেকশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে বিদ্যুৎ বিলের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজ হয়।