• পেটের টানে কলকাতায়, আর ফেরা হল না! তারাতলা বিপর্যয়ে প্রাণ গেল নদিয়ার বাবা-ছেলের
    News18 বাংলা | ২৫ জুন ২০২৬
  • কলকাতা তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। এদের মধ্যে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চর শম্ভুনগর চৌধুরী পাড়া এলাকার দুই শ্রমিক রয়েছে। এই এলাকারই আহতর সংখ্যা দুইজন। ইতিমধ্যেই দুজনের মৃত্যুতে নেমে এসেছে এলাকায় শোকের ছায়া।

    শুধুমাত্র রুটি রুজির আশায় ঠিকাদারের মাধ্যমে এই গ্রাম থেকে কাজে গিয়েছিল ছয় থেকে সাত জন নির্মাণ শ্রমিক। হঠাৎই বুধবার দুপুরে নির্মীয় বিল্ডিং ভেঙে চাপা পড়ে একাধিক নির্মীয়মান শ্রমিক। এদের মধ্যে নদিয়ার তোর সম্ভবনগর চৌধুরীপাড়া গ্রামের চারজন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে।

    বুধবার রাতেই গ্রামের খবর আসে নির্মীয়মান শ্রমিকদের মধ্যে চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০) এবং রাহুল চৌধুরী (১৭) এরা ঐ বিল্ডিং এই কাজ করছিলেন। বুধবার প্রথমে আহত হওয়ার খবর আসে গ্রামে, এরপর রাতে আসে মৃত্যুর খবর। খবর আসা মাত্রই গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি এরা। শুধুমাত্র পেটের টানে রুটি রুজির আশায় ঠিকাদারের মাধ্যমে কলকাতায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজে গিয়েছিল তাঁরা।

    পরিবার থেকে শুরু করে এলাকাবাসীর দাবি এই দু:স্থ মৃত পরিবারের পাশে সরকার নজর দিক। ইতিমধ্যেই মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গ্রাম থেকে লোকজন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চর শম্ভুনগর এলাকার বাসিন্দা দুর্বাশা মাল্লা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসারের হাল ধরতেই প্রায় পাঁচ মাস আগে কাজের সন্ধানে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ পুলিশের মাধ্যমে তাঁর আহত হওয়ার খবর পরিবারে পৌঁছায়। খবর পেয়েই উদ্বেগে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবার ও আত্মীয়দের সুবিধার্থে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। জরুরি তথ্য জানতে যোগাযোগ করা যেতে পারে ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫ নম্বরে।

    উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। মৃত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারি ঘোষণা এখনও অপেক্ষাধীন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)